কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ছোট হক সাহেব নামেই পরিচিত প্রভাবশালী নেতা সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ভাতিজা জামসেদ আলম। এলাকায় সবার কাছে ছোট হক নামেই পরিচিত। বিগত সরকারের সময় ছাদ খোলা গাড়িতে হাত নেড়ে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে মহড়া দিতেন মুজিবুল হকের আসনে। কারণ পরবর্তী সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে ছিলেন জামশেদ আলম।
একসময় ছাত্রলীগ করা জামশেদ সর্বশেষ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। এসব পদ নিতে গিয়ে খরচ করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। দলীয় কোনো কর্মসূচিতে না থেকেও জামসেদের অঢেল সম্পদ এবং প্রভাবের কারণেই পদ পেতে কখনো বেগ পেতে হয়নি।
স্বপ্রণোদিত হয়ে দুদকে অভিযোগকারী হাইকোর্টের একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জামশেদ আলমের চাচা জামশেদের চাচা মুজিবুল হক রেলমন্ত্রী থাকা অবস্থায় পিএস কিবরিয়া এবং জামশেদ মিলে কাজ ভাগাভাগি করতেন। মন্ত্রী চাচার সুবাদেই গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। একের পর এক কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল জামশেদ। এছাড়াও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের এপিএস মিজানের সাথে সিন্ডিকেট করে কয়েকটি ভুয়া প্রজেক্ট তৈরি করে এপিএস মিজান ও জামশেদ ইনোভেশন আইটি লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকার কাজের নামে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া রাজধানীর ইস্কাটনের বোরাক টাওয়ারে জামশেদ আলমের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এপিএস মিজানের। সন্ধ্যার পরে সেখানেই এপিএস মিজান অফিস করতেন। এপিএস মিজানের ব্যাংক একাউন্ট পরীক্ষা করলে জামশেদ আলমের সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাবে বলে তথ্য সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে এপিএস মিজানের দুর্নিতি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। দেশের বাইরে দুবাইয়ে মুজিবুল হকের বিশাল বিনিয়োগ থাকলেও দেশে তার ভাতিজা জামশেদ আলমের কাছে প্রায় দেড় শতকোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।
জানা যায়, এই জামশেদ আলমের ঢাকায় ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, উত্তরায় রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। কুমিল্লা ঠাকুর পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। এছাড়াও দুবাই এবং ইউরোপের একটি দেশে রয়েছে ব্যবসা ও বিনিয়োগ। নিজের নামে ও অন্য নামে প্রায় চারটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি।
জামশেদ আলমের এই সম্পদের উৎস জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জামশেদ আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারমিডিয়েট সমমানের হলেও বিয়ে করেছেন বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাস করা একজন চিকিৎসক। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রায় কোটি টাকা খরচ করে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন।
৫ আগস্টের পরে চাচা মুজিবুল হকের পাশাপাশি জামশেদ আলমের দুর্নীতি নিয়েও আলোচনা হয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে। কিন্তু সব দপ্তরকেই আশ্চর্য জাদুবলে তিনি ম্যানেজ করে ফেলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামশেদ আলমের এক আত্মীয় বলেন, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছেন জামশেদ আলম। এছাড়াও মুজিবুল হকের অর্থ সম্পদের একটা বড় অংশ দেখা-শোনাও করছেন তিনি।








