জিতলেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের পা দেয়ার সুযোগ। হারলেই আগামী এক বছরের জন্য ফিফা উইন্ডোর ম্যাচ না পাওয়ার আশঙ্কা। এমন সমীকরণকে সামনে রেখেই দুদল খেলতে নামে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দশজনের দল নিয়ে মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ।
মালেতে হওয়া অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-১ গোলে বাংলাদেশ ড্র করেছিল। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা পরের রাউন্ডে খেলবে।
কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়ানো ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই বাজে রক্ষণের সুযোগে বাংলাদেশের গোল হজমের শঙ্কা জাগে। শাকিলের ভুলে বল পেয়ে যান মালদ্বীপের মিডফিল্ডার হামজা মোহাম্মাদ। পরে অবশ্য শাকিল কর্নারের বিনিময়ে দলকে সেই যাত্রায় বাঁচান।
আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা খেলার দশম মিনিটে উৎসবে মেতে ওঠে কিংস আরেনার গ্যালারি। বাঁ প্রান্ত থেকে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বাঁ পায়ের ক্রসে বল পান ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার আহনাফ রাশেদ করে বসেন ভুল। রাকিবকে মার্ক করতে ব্যর্থ হন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে রাকিব বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার চতুর্থ গোল।
পাঁচ মিনিট পর টাইগাররা আবারও গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। মাঝ মাঠের কাছ থেকে রাকিবের লম্বা পাসে বল নেন জামাল ভূঁইয়া। বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছ থেকে বল নিয়ে ফাহিমের নেয়া শট কর্নারের বিনময়ে প্রতিহত করেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক হুসাইন শরিফ।
খেলার ২০ মিনিটে মিডফিল্ডার হামজা মোহাম্মাদ ডি বক্সের ভেতর শট নিলেও রক্ষণভেদ করতে পারেননি। অল্পের জন্য বেঁচে যায় হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
স্বাগতিক দলের ডিফেন্ডার সোহেল রানা ডি বক্সের বাইরে থেকে ২৫ মিনিটে লম্বা শট নিলেও তা পোস্টের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।
২৯ মিনিটে বাংলাদেশ নিশ্চিত আরও একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। হৃদয়ের পাসে বল পাওয়া রাকিব গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন। ডান পা দিয়ে বল ঠেকিয়ে শরিফ ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি।
৩৩ মিনিটে হামজার নেয়া বুলেট গতির কোণাকুণি শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা। খানিক পর পাল্টা আক্রমণ থেকে হৃদয় বল নিয়ে এগিয়ে যান। তার কাছ থেকে জামাল বল নিয়ে রাকিবের কাছে দিলেও সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।
৩৬ মিনিটে মালদ্বীপের গোল। রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হামজার কর্নার কিকে উড়ে আসা বলে হেডে নিশানাভেদ করেন আইসাম ইব্রাহিম। বিরতির আগে ৪৫ মিনিটে হামজার নেয়া ক্রসে আলী ফাসির হেড করতে না পারায় মালদ্বীপ লিড পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও লিড পায় বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের নেয়া কিক প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকালেও রাকিব বল রিসিভ করেন। বাঁ পায়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বল জালে জড়িয়ে দলকে আনন্দে ভাসান।
৫৮ মিনিটে সোহেল রানা ক্রসে হেড করতে না পারায় গোলবঞ্চিত হন রাকিব। খানিক পর প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে বাজেভাবে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মাদ সোহেল রানা। দশজনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
৬৭ মিনিটে জামালের জায়গায় মজিবুর রহমান জনি মাঠে নামেন। মিনিট দুই পর রাকিব গোলের সুযোগ পেলেও শেষ মুহূর্তে অতিথি দলের এক খেলোয়াড় তা কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে ঠেলে দেন। ইব্রাহিমের দূরপাল্লার জোরালো শট ৭২ মিনিটে মিতুল ধরে ফেলায় লিড ধরে রাখে বাংলাদেশ।
৭৯ মিনিটে ফাহিমের শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। রক্ষণভাগ শক্তিশালী করার জন্য ৮৩ মিনিটে ফাহিমের বদলে হাসান মুরাদকে মাঠে নামান ক্যাবরেরা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮৯ মিনিটে সোহেল রানার কর্নার কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষ হেডে বল জালে জড়ালেও রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ডি বক্সের কাছে জনিকে বাজেভাবে ফাউল করায় আহনাফ লাল কার্ড দেখলে মালদ্বীপও হয়ে যায় দশজনের দল। শেষ দিকে অতিথিরা আক্রমণ হানলেও লিড ধরে রেখে জয়ের হাসি নিয়ে বাংলাদেশ মাঠ ছাড়ে।







