“অনেকে মনে করেন মিডিয়াতে কাজ করলে অর্থবিত্তের মালিক হওয়া যায়। কিন্তু আমি সবসময় বলি, শুধু মিডিয়াতে কাজ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। আমি দেশ বিদেশে বহু উপস্থাপনার মাধ্যমে মেগা ইভেন্ট করেছি। উপস্থাপনার প্রায় সব মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, উপস্থাপনা একটা ভাসমান শিল্প। জাতীয়ভাবে স্বীকৃত নয়। উপস্থাপনা করে বাড়িগাড়ি করা সম্ভব না।”
কথাগুলো উপস্থাপক ইসরাত পায়েলের। যিনি টিভি, স্টেজ শো, কর্পোরেট কিংবা খেলার মাঠ- একসময়ে দাপিয়ে উপস্থাপনা করতেন ইসরাত পায়েল। এমনকি তিনি ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও উপস্থাপনা করেছেন। তবে বেশকিছু দিন যাবত ইসরাত পায়েল উপস্থাপনার কাজ ছেড়েছেন, এখন ব্যবসায় মনোযোগী হয়েছেন।
সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়ে নিজের বিলাসবহুল লাইফস্টাইল সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে পায়েল বলেন, মিডিয়ায় বা উপস্থাপনার পাশাপাশি বিলাসবহুল লাইফস্টাইল মেইনটেইন করতে অবশ্যই চাকরী করতে হবে অথবা ব্যবসা করতে হবে। আমি নিজেও সেলুন ও পার্লার ব্যবসায় জড়িত। হতে পারে এই কারণে আমি অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক বিলাসবহুল লাইফস্টাইল লিড করতে পারি।
‘প্রাইম সেলুন’ নামে একটি গ্রুমিং ও স্টাইলিং সেবাদানকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত পায়েল। ঢাকা ও খুলনাসহ সারাদেশে এই সেলুনের ছয়টি শাখা রয়েছে। পাশাপাশি শিপিং ব্যবসা রয়েছে। পায়েলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০০ শতাধিক কর্মচারি কাজ করে থাকেন।
কেন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন এই প্রসঙ্গে পায়েল জানিয়েছেন, যখন মিডিয়াতে কাজ করতাম নিয়মিত মেকাপ নিতে হতো। সেখান থেকে এর সঙ্গে ভালোবাসা জড়িয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ব্যবসাও প্রফিটেবল। সবমিলিয়ে ছেলে বা মেয়ের নিত্য-নতুন দিনে সৌখিন থাকতে গেলে সেলুনে আসতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করেই এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছি। আমরা স্বল্প মূল্যে আন্তর্জাতিকমানের সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের সেবার মূল্য শুরু হয় ৫০ টাকা থেকে। এছাড়া বিভিন্ন ডিসকাউন্ট দেয়া হয়ে থাকে।
নিকত অতীতে নানা কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতে বুলিংয়ের শিকার হতেন ইসরাত পায়েল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজে মন্তব্য প্রথমদিকে খারাপ লাগতো। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি, আমি খারাপ সেজন্য খারাপ মন্তব্য করে এমনটা না। যে খারাপ অবস্থায় আছে এবং মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত, কষ্টে আছে এজন্য তারা খারাপ মন্তব্য করে। যে বাজে মন্তব্য লেখে সে যদি ভালো অবস্থায় থাকতো তাহলে তো কমেন্ট করার সময় পেতো না। যারা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, দায়িত্বশীল মানুষ তাদের এতো সময় নেই।








