দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের ব্লাত ও ওয়াদি বারঘৌতি এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সর্বশেষ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তবে প্রায় প্রতিদিনের এসব হামলায় বেসামরিক লোকজন ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ হামলাই বন ও পাহাড়ঘেরা খোলা এলাকায় চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান টহল অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের উঁচু এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আল-মানার টিভি দাবি করেছে, মারকাবা শহরে তৃতীয়বারের মতো ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী সিরীয় কিশোর হুসেইন মোহসেন আল-খালাফ। তিনি বালবেকের কাছে কফর দান এলাকায় হামলায় নিহত হন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাতে, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়, তাতে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার আহত হন।
গত সপ্তাহে বেকা উপত্যকা ও সাইদা শহরের কাছে আইন আল-হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহ ও হামাসের কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল এখনও লেবাননের কিছু এলাকা দখলে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ প্রায় শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করতে আরও চার মাস সময় লাগবে।
তবে হিজবুল্লাহ বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরস্ত্রীকরণ শর্ত কেবল লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি, ইসরায়েল হামলা ও দখল অব্যাহত রাখলে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।







