সম্প্রতি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন শো ইসলামী বিশ্বে বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ফ্যাশন শো নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলাম পন্থীরা।
সৌদি আরবের বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব ‘রিয়াদ সিজন’-এ এই ইনস্টলেশনকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে মূলধারার আরব গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
সমালোচকদের বক্তব্য, এটা ইসলামের পবিত্রতম স্থানের অবমাননা করা।
তবে সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। গুজব রুখতে কাজ করে এমন এক সৌদি সংগঠনও জানিয়েছে, ফ্যাশন শোতে রাখা যে কাঠামোকে ঘিরে এত বিতর্ক, তা একটা কাচের তৈরি ঘনকাকৃতির একটা বস্তু মাত্র।
বিষয়টা নিয়ে শোরগোল হওয়ার পর সৌদি আরবের ‘অ্যান্টি রিউমর অথরিটি’ বা গুজব বিরোধী কর্তৃপক্ষ ওই অনুষ্ঠানে পবিত্র কাবা শরিফের আদলে তৈরি কোনও বস্তু ব্যবহারের বিষয়টা সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ইন্টারনেটে ‘টেলিগ্রাম’ এবং ‘ফেসবুক’ মারফত এই অনুষ্ঠানের ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করা হচ্ছে।তারিক অব্দ আল-হলিম, একজন কানাডীয় ইসলামী লেখক। তিনি ‘টেলিগ্রাম’-এ হিদায়াত আলসারি নামে পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লিখেছেন, আরব উপদ্বীপে বহুঈশ্বরবাদ একটা আনুষ্ঠানিক ধর্ম হিসেবে ফিরে এসেছে।
ইসলামিক স্টেট-এর একজন সমর্থক ফেসবুকে সৌদি যুবরাজকে ‘অনৈতিক ব্যভিচারী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি (সৌদি যুবরাজ) ‘ইসলামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। ইসলামিক স্টেটের সমর্থকদের লক্ষ্য প্রায়ই সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব দেশকে নিশানা করা। তারা এই সমস্ত দেশকে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা স্বার্থকে ‘রক্ষাকারী’ হিসাবে বিবেচনা করে।
রিয়াদ সিজন সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত একটা বিনোদন, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া বিষয়ক বার্ষিক অনুষ্ঠান।রিয়াদ সিজন ২০২৪-এর অংশ হিসেবে লেবানিজ ডিজাইনার এলি সাব একটা ফ্যাশন শো করেছিলেন। সে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে এই অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক আপত্তি জানিয়েছেন।
মঞ্চে প্রদর্শন করা ওই কাঠামো ছাড়াও তারা সমালোচনা করেছেন ফ্যাশন শোয়ের টাইমিং নিয়ে। গাজা উপত্যকায় এবং লেবাননে যুদ্ধের মাঝে এই ফ্যাশন শো আয়োজন করা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদপত্র রায় আল-ইয়ুমের এক প্রতিবেদনে, রিয়াদ সিজনের ডিজাইনার ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে উপেক্ষা করার অভিযোগও আনা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একজন জনৈক ব্যক্তি কটাক্ষ করে লিখেছেন- ‘গাজায় গণহত্যার মধ্যে সৌদি আরব নৃত্যশিল্পী ও গায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি বাংলা








