মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানায়, হামলার ২৫তম ধাপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, এ অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ ও ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে; ঘণ্টায় এর গতি প্রায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মুখে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে এবং আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আক্রমণ চালানো হবে না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক হামলার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ’ মন্তব্যকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইরানের বিশ্লেষক হামিদরেজা গোলামজাদে। তিনি বলেন, ইরান শুধু প্রতিবেশীদের অনুরোধ করেছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে না দেয়।
অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার, অস্ত্রভান্ডার ও সামরিক স্থাপনায় রাতভর হামলা চালানো হয়েছে। রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলায় একটি মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ও সতর্কীকরণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে আমিরাতের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা তেহরান ও ইসফাহানে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক আকারে’ নতুন দফা বিমান হামলা শুরু করেছে। শনিবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রথমবারের মতো এ হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে আইডিএফ।







