ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ষষ্ঠ দিনেও তেহরানের রাজপথে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছবি দেখা গেছে। যুদ্ধের তীব্রতা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলার চিহ্ন নেই বলে সরেজমিন প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
সিএনএনের সিনিয়র আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা ফ্রেডেরিক প্লিটজেন সিএনএনের অফিসিয়াল এক্স পেজে জানান, তিনি এবং তার টিম ইরানে প্রবেশ করে তেহরানের দিকে যাত্রার সময় লক্ষ্য করেছেন যে, দেশের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে, চেকপয়েন্টের সংখ্যা অনেক বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও জনজীবনের স্বাভাবিকতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
তিনি জানান, তেহরান ও আশপাশের শহরগুলোতে দোকান-বাজার যথারীতি খোলা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন নেই। জ্বালানি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা যুদ্ধকালীন সংকটের সময় সাধারণত দেখা যায় না। যুদ্ধের শব্দ ও বিস্ফোরণ মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত রয়েছে। কোনো আতঙ্ক বা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এই সংঘাত শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। তার মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে, একদিকে ইরান পাল্টা ড্রোন-মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
সিএনএনের এই প্রতিবেদন সরকারের অনুমতি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ইরান সরকার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

