মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ চালায়, তবে তার “তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী” জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী আঙুল ট্রিগারে রেখে প্রস্তুত আছে—স্থল, আকাশ কিংবা সমুদ্রপথে যেকোনো আগ্রাসনের দ্রুত ও কঠোর জবাব দিতে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ থেকে ইরান ‘মূল্যবান শিক্ষা’ পেয়েছে। তার ভাষায়, ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আরও দ্রুত, গভীর ও জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করেছে।
এদিকে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করে বলেন, একটি ‘বিশাল মার্কিন আর্মাডা’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও শক্ত হাতে অভিযান চালাতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান, নয়তো আরও ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।
এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। আরাঘচি বলেন, হুমকি ও অতিরিক্ত দাবি থাকলে আলোচনা হতে পারে না। কেবল হুমকিমুক্ত পরিবেশেই সংলাপ সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালায়, তবে সেই দেশগুলোকে “শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কূটনৈতিক মহলে জানা গেছে, প্রকাশ্য হুমকির আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।







