আলোচনা ছিল, শঙ্কা ছিল, অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নামই প্রত্যাহার করল ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের প্রতিবাদে বিশ্বকাপে খেলবে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তাহলে ৪৮ দল নিয়ে আয়োজন হতে চলা আসরের সেই খালি স্থানটির কী হবে, কীইবা পদক্ষেপ নিতে পারে ফিফা?
বুধবার দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপে না খেলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে আয়োজন হতে চলা ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলল ইরান সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। তাই কোন অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না। আমাদের শিশুরা নিরাপদ নয় এবং মৌলিকভাবে, অংশগ্রহণের জন্য এমন কোন শর্ত নেই।’
প্রথমে জানতে হবে কোন দল বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে ফিফা কেমন পদক্ষেপ নেয়। অভিভাবক ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটি নিজ বিবেচনায় বিকল্প দল ডাকতে পারে বা প্রতিযোগিতার কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বিধিমালার ৬.৫ ধারায় বলা আছে, ফোর্স ম্যাজিউর পরিস্থিতির কারণে কোন দল সরে দাঁড়ালে বা ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলে, অনুমোদিত আয়োজক সংস্থা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। ৬.৭ ধারায় বলা হয়েছে, একই ফোর্স ম্যাজিউর পরিস্থিতিতে দল সরে গেলে বা বাদ পড়লে ফিফা নিজ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং চাইলে অন্যকোন দেশকে প্রতিস্থাপনের জন্য বেছে নিতে পারবে।
ইরানের সরে যাওয়াতে ফিফার হাতে এখন দুটি পথ আছে, ‘জি’ গ্রুপকে তিন দলের গ্রুপে রূপান্তর করা, অর্থাৎ ৪৮ থেকে নেমে সেটি এসে দাঁড়াবে ৪৭ দেশের বিশ্বকাপে। সেক্ষেত্রে ইরানের গ্রুপ থেকে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর একে অপরের বিপক্ষে খেলার পর গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় দল পরের রাউন্ডে যাবে।
দ্বিতীয় যে পথ, সেটি হল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) থেকে, যে দেশটি যোগ্যতা অর্জনের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল, সেই দেশটিকে ইরানের শূন্যস্থানে টুর্নামেন্টে জায়গা দেয়া হবে। ইংলিশ গণমাধ্যম বলছে, সম্ভাব্য এই পথেই হাঁটতে পারে ফিফা।
তাহলে কোন দেশকে ইরানের জায়গায় নেয়া হতে পারে? এশিয়ার বাছাইপর্বের বহুস্তরীয় কাঠামোর কারণে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিকল্প নির্বাচন কঠিন। ইরান তৃতীয় পর্বে নিজেদের গ্রুপ ‘জি’ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠে। উজবেকিস্তানও সরাসরি জায়গা পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার চতুর্থ পর্বে যায়, যেখানে কাতার শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ওঠে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সেসময় ইরাকের কাছে প্লে-অফে হারে। ইরাক এরপর আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে যায়, যেখানে তারা বলিভিয়া বা সুরিনামের মুখোমুখি হবে।
ইরাক যদি প্লে-অফে হেরে যায়, সেক্ষেত্রেও তাদেরই ইরানের জায়গায় বেছে নেয়া হতে পারে। আর ইরাক জিতলে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে ফিফার টেবিলে।
অবশ্য ফিফা জানিয়েছে আপাতত বিকল্প দল অথবা কাঠামো বদলাতে চাচ্ছে না তারা। বিশ্ব গণমাধ্যমে আসছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ফিফা ইরানের পরিস্থিতি সমাধানের জন্য অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। এমনকি যুদ্ধ বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হয় সেটাও পর্যবেক্ষণ করবে ফিফা। ৩১ মার্চ প্লে-অফের ফলাফল, যেটা বর্তমানে এ ইস্যুতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার বড় সম্ভবনা রয়েছে ৩০ এপ্রিলে ফিফা কংগ্রেসের ৭৬তম বৈঠকে।








