এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সতর্কবার্তায় ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের ওপর হামলার ভিডিও দেখিয়ে বলা হয়, ‘এবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।’
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে এক নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুকধারীর গুলিতে ট্রাম্প আহত হন। হামলায় তার কানে গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় মঞ্চ থেকে নেমে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন রিপাবলিকান এই নেতা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই হুমকি এসেছে এমন এক সময়, যখন ইরানে ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এটিই সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
তবে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, “অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র” থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ইরানে দমন-পীড়নের মাত্রা কমেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২১ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোমন্টেজ প্রকাশ করে, যেখানে যুদ্ধবিমানের ছায়ায় ট্রাম্পকে গলফ খেলতে দেখা যায়। সেখানে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
ওই পোস্টে বলা হয়, “প্রতিশোধ অনিবার্য। সোলাইমানির হত্যাকারী এবং নির্দেশদাতাকে শাস্তি পেতেই হবে।” বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ওই হামলায় সোলাইমানি ও তার ইরাকি সহযোগী নিহত হন, যা ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো হয়েছিল।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক সদস্য ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প নিজেও বলেন, যদি তাকে হত্যার চেষ্টা সফল হয়, সে ক্ষেত্রে ইরানকে “নিশ্চিহ্ন” করে দেওয়ার নির্দেশ তিনি আগেই দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, “আমি বলে দিয়েছি—যদি তারা এটা করে, তাহলে ইরানের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।”









