ইরানের মিনাব শহরে একটি স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় প্রায় ১৬৮ জন নিহত হন। ইরান সরকার সামাজিক মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে জানায়, তারাই সরাসরি এই হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারত, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসগুলো ইউএসএস স্প্রুয়ান্সের কমান্ডার লেইঘ আর টেট এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার জেফ্রি ই ইয়র্কের ছবি প্রকাশ করে অভিযোগ করেছে, তারাই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার নির্দেশ দেন।
দূতাবাসের দাবি, এই দুই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তিন দফা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেন, যার লক্ষ্য ছিল শাজারেহ তায়্যেবেহ স্কুল।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছে, এই দুই অপরাধীকে মনে রাখুন কমান্ডার লেইঘ আর টেট এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার জেফ্রি ই ইয়র্ক। তারা তিনবার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেন, যার ফলে মিনাবের একটি স্কুলে ১৬৮ জন নিরীহ শিশু নিহত হয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে জরুরি আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে পরিচালিত আক্রমণ এবং এতে ১৭৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, স্কুলে বোমা হামলার ঘটনা গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে” এবং এর জন্য বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে সামরিক তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মিনাবের ওই স্কুলে হামলার পেছনে ওয়াশিংটনের বাহিনী অনিচ্ছাকৃতভাবে জড়িত থাকতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ রোববার ৩০তম দিনে গড়িয়েছে।








