ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে ছয় দফা শর্ত ঘোষণা করেছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা চুক্তিতে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
রোববার (২২ মার্চ) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। এতে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশটি আগে থেকেই একটি সুপরিকল্পিত বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা কৌশল প্রস্তুত রেখেছিল, যা বর্তমানে ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা দুর্বল করার পর ইসরায়েলের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের ঘোষিত ছয় দফা শর্তের মধ্যে রয়েছে- ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং পুরো অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গঠন এবং ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের প্রত্যর্পণের দাবিও জানানো হয়েছে।
তেহরানের মতে, এই শর্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ফলে এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।








