মেয়েদের এশিয়ান কাপে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ইরানের ৫ ফুটবলার। তাদের বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেয়া হয় ইরানের গণমাধ্যমগুলোতে। দেশে ফিরলে জীবনাশের হুমকিও ছিল। এজন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই পাঁচজনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া যেন ইরান দলের ওই পাঁচ সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়, এই আহ্বান ছিল মানবাধিকার সংস্থা, ফুটবল ইউনিয়ন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের। দাবি ছিল পূর্ণ সুরক্ষা দেয়ার। ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে আহ্বান জানানোর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই আশ্রয়ের সিদ্ধান্তটি এলো।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ইরান দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। লিখেছেন, ‘গত রাতে আমি ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচজনকে জানাতে পেরেছি যে, তারা অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং এখানে তাদের একটি বাড়ি থাকবে।’
এরআগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো খেলোয়াড়রা যদি ইরানে ফিরে যান, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়া যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন বলেছিলেন।
২ মার্চ সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় ওই খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ কারণে তারা ইরানের কট্টরপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন।
ফিফা বিবৃতিতে জানায়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকার এবং তারা সংশ্লিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ ও ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
এরআগে কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে টিম হোটেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খেলোয়াড়রা যখন ইরানে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে যেতে বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেখানে ইরানি সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তারা কিছুক্ষণের জন্য টিম বাস আটকে রাখেন, খেলোয়াড়দের সাহায্যের জন্য ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ লেখা প্লাকার্ড দেখান।








