ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইসরাইল-আমেরিকান শত্রুদের মিত্র ও সমর্থকদের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আগত জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইরানের সতর্কবার্তার পর বিভিন্ন দেশের তিনটি কন্টেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সম্ভাব্য এই সেনা মোতায়েন ইরান ও পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় হতে পারে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হবে, নতুবা দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এর আগে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল তেহরান।








