আইপিলে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় লাগিয়ে ফেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৪ বছর ৩২ দিন বয়সী বৈভব স্বীকৃত টি-টুয়েন্টির সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলতে তাকাননি কোনো বোলারের নামের দিকে। শুধু বল দেখেছেন, আর ব্যাট চালিয়েছেন। এমন সাফল্যের পেছনের গল্পটা ছিল বেশ কঠিন, সেটাও বলেছেন।
গত ১৯ এপ্রিল লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে নেমে আইপিএল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ড গড়েন বৈভব সূর্যবংশী। ২০ বলে ৩৪ রান করে ঝলক দেখান। সোমবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডই। নিজের তৃতীয় ম্যাচ নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম আইপিএল ফিফটিকে একশতে রূপ দিয়েছেন বৈভব। হয়েছে বিশ্বরেকর্ড।
২১০ রান তাড়ায় রাজস্থানকে ৮ উইকেটে জিতিয়ে ম্যাচসেরা হন বৈভব। ব্যাট হাতে যতটা বিধ্বংসী, মাইক্রোফোনের সামনে ততটাই ছিলেন নরমসরম। প্রতিক্রিয়া প্রকাশে খুব উচ্ছ্বাসেরও ছোঁয়া ছিল না।
আইপিএলের প্রথম শতক পেয়ে উচ্ছ্বসিত বৈভব বলেছেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আইপিএলে আমার প্রথম শতক তৃতীয় ইনিংসেই। খুব ভালো লাগছে। এতদিন ধরে, গত তিন-চার মাস ধরে আইপিএলের জন্য যে অনুশীলন করে আসছি, সেটির ফল দেখা যাচ্ছে মাঠে। আইপিএলে সেঞ্চুরি করা স্বপ্নের মতোই।’
রেকর্ড গড়া ম্যাচের পর শোনান কত ত্যাগ করতে হয়েছে। সূর্যবংশী বলেছেন, ‘‘এপর্যন্ত আসতে পেরেছি বাবা-মায়ের জন্য। ভোরে আমার অনুশীলনে যেতে হবে, এজন্য মা রাত দুটায় ঘুম থেকে উঠে যেতেন। কেবল ঘণ্টাতিনেক ঘুমাতেন। উঠে আমার জন্য খাবার বানাতেন। বাবা কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন আমার জন্য। বড় ভাই সেটা সামলাতেন। অনেক কষ্টে চলছিল সংসার। কিন্তু বাবা আমার পেছনে লেগেই ছিলেন, ‘তুমি পারবে, তুমি করবে।’’
‘সৃষ্টিকর্তা এসব দেখেন। পরিশ্রম যারা করেন, তারা কখনও অসফল হন না। আজকে যতটুকু ফল মিলছে, যতটা সফল হচ্ছি, সব বাবা-মায়ের জন্যই। অনেকদিন থেকেই তৈরি হচ্ছিলাম। ফল পেয়ে ভালো লাগছে। সামনে আরও ভালো করতে চাই, দলের জন্য অবদান রাখতে চাই।’
আইপিএলের মৌসুম শুরু আগে মেগা নিলামে ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে সূর্যবংশীকে নেয় রাজস্থান। আইপিএলের অর্থের বাজারে এটা বড় অঙ্ক নয়। তবে সেই সময়ে ১৩ বর্ষী ক্রিকেটারকে এই অঙ্কে দলে নেয়া মানেও ছিল বিশেষ কিছু।








