ইন্টারনেট ব্যবসার বিরোধের জেরে রাজধানীর গুলশানে সুমন নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে পুলিশ প্লাজার পাশে ফজলে রাব্বী পার্কের কোণায় সুমনকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: সুমন পুলিশ প্লাজার উত্তর পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পথচারীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা জানান, মহাখালী এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সুমন। তবে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের হুমকির মুখে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
সুমনের স্ত্রীর বড় ভাই মো. বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় প্রিয়জন নামে সুমনের একটি ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে। সুমনের সঙ্গে অন্য গ্রুপের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল।
নিহতের স্ত্রী মৌসুমী বলেন, সুমন ইন্টারনেটের ব্যবসা করত। মহাখালী এলাকায় সংযোগ দিতো। বিরোধী পক্ষ নানা হয়রানি করে তাকে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য করেছে। সব লাইন কেটে দেয় তারা।
এ ঘটনায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ডিবি ও র্যাব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মারুফ আহমেদ জানান, নিহত সুমনের মাথায়, বুকের বামপাশে গুলির ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তবে কী কারণে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, নিহত সুমনের স্ত্রীর বড় ভাই মো. বাদশা মিয়া রুবেল জানান, সুমন এক ছেলে এক মেয়ের জনক। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।








