জাপানের টোকিওতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি কাতসুশিকা সিটির মিজুমোতো লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটি’। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন ডক্টর খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অতিথিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু ভাষা স্মরণের দিন নয়, এটি ভাষাগত অধিকার, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মানবাধিকারের প্রতীক।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্টার্টআপ প্রদর্শনী, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্টার্টআপ প্রদর্শনীতে ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হয়। মডেল ইউনাইটেড নেশনস পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ভাষাগত বৈচিত্র্য, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ফ্যাশন শোতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ডক্টর খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে তাদের ভাষা ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আন্তর্জাতিক নৈশভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। পরে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়।








