বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করে রাখা হয়েছিল বলেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে ওঠে। হাজারো ছাত্র–জনতার রক্তে অর্জিত সেই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—এই দেশে ভারতের আধিপত্যবাদ চলবে না, আর ১৯৭২ সালের সংবিধানও চলবে না। আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের চেতনার ভিত্তিতে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সংবিধান ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর ইচ্ছায় ভারতের সংবিধানের মূলনীতিগুলো বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। এতে লাখো মানুষের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ভারত মাতার কাছে বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ জয়লাভ করলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। ৪৭-এর দেশবিভক্তির ভিত্তিতে ‘ইসলামের বাংলাদেশ’ গড়ে উঠবে এবং দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হবে।
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভাগ্যই শুধু বদলেছে। কিন্তু রিকশাচালক, নৌকার মাঝি, কৃষক–শ্রমিক, মেহনতী মানুষের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
শেষে তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস হোসেনপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম ফারুকী। প্রধান বক্তা ছিলেন কিশোরগঞ্জ–১ আসনের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল করিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।







