ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। একই দিনে তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠক ও আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব, বিশেষ করে ভারতের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সামাজিক মাধ্যমে জয়শঙ্কর জানান, রুবিওর সঙ্গে তার বিস্তারিত ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি।
তবে এই ফোনালাপ কিংবা জিসিসি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। জয়শঙ্কর জানান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জিসিসির ছয় দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তিনি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয়দের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য রাষ্ট্রদূতদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এই বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের মন্ত্রিসভা নিরাপত্তা কমিটি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদক্ষেপে দেশের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসরত প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেও ভারত সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে।
জিসিসি বৈঠকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়াও বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও কাতারের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই প্রায় ৮০ লাখ ভারতীয় বসবাস করেন।
এদিকে, একই দিনে জয়শঙ্কর শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ-এর সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কাসহ ভারতের কিছু প্রতিবেশী দেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য দিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত সরকার এসব অনুরোধ বিবেচনা করছে এবং মজুত ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








