টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের পর আবারও ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড জয় পাওয়ায় সেমিফাইনালে সেই দেখা আর হচ্ছে না দুদলের। যদিও ফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবকিছুর আগে ভারত-পাকিস্তানের সেমিতে ওঠা নিয়েই রয়েছে শঙ্কা।
মঙ্গলবার ইংল্যান্ড দারুণ খেলে পাকিস্তানকে হারানোর কারণে শেষ চারে ভারতের সাথে পাকিস্তানের দেখার হওয়ার কোন সুযোগ নেই, যদি তারা সেমিতে ওঠে তখন এটা ঘটবে। টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী, সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে আরেক গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে। আর গ্রুপ ২-এর সেরার সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে আরেক গ্রুপের রানার্সআপের।
ইংল্যান্ড দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বর গ্রুপে শীর্ষে আছে। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। পাকিস্তান দুই ম্যাচ খেলে বৃষ্টির কারণে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে। তাদের হাতে আর এক ম্যাচ বাকি। জিতলেও তিন পয়েন্টের বেশি হবে না, থাকতে হবে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়েই, মানে গ্রুপ রানার্সআপ হবে, যদি তাদের গ্রুপে অন্যকেউ পাকিস্তানের চেয়ে বেশি পয়েন্ট জমিয়ে রানার্সআপ দখল না করে ফেলে সেক্ষেত্রে এমন ঘটবে।
এটা গেল সুপার এইটে রানার্সআপ হওয়ার হিসাব, তবে সেমির আগে বাদ পড়ার সম্ভাবনাই উজ্জ্বল পাকিস্তানের সামনে। সুপার এইটে শেষ ম্যাচে তারা যদি শ্রীলঙ্কার কাছে হারে তবে সরাসরি বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে। এমনকি নিউজিল্যান্ড যদি পরের দুই ম্যাচে জেতে, তাহলে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাকিস্তান জয় পেলেও বিদায় নিতে হবে আসর থেকে।
অন্যদিকে, সাউথ আফ্রিকার কাছে হেরে এক নম্বর গ্রুপে তৃতীয় স্থানে আছে ভারত। সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে তাদের উপরে আছে। সেমিফাইনালে যেতে ভারতকে এরপর জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততেই হবে, জিততে হবে আবার বড় ব্যবধানে। সব হিসাব মিলিয়ে ভারত যদি সেমিফাইনালে উঠে যায়, তখনও তাদের বর্তমান ঋণাত্মক নেট রানরেট (-৩.৮০০) বড় প্রভাব ফেলবে। তাদের জন্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় অসম্ভবই বলা চলে।
এমনকি শঙ্কা রয়েছে সুপার এইট থেকে ভারতের বাদ পড়ারও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সাউথ আফ্রিকা, দুদলই বড় জয়ে ভারতের জন্য মূল সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। ভারতের পরের দুই ম্যাচ জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যে দুটি ম্যাচ তাদের জিততেই হবে, পাশাপাশি সাউথ আফ্রিকাকে জিততে হবে উইন্ডিজ এবং সিকান্দার রাজাদের বিপক্ষে। তাহলে ভারত যেতে পারবে সেমিতে।
অন্যদিকে যদি ক্যারিবিয়ানরা প্রোটিয়াদের হারিয়ে দেয় এবং ভারত বাকি দুটি ম্যাচেই জেতে, তবে সাউথ আফ্রিকা, উইন্ডিজ এবং ভারতের পয়েন্ট হবে ৪ করে। সেক্ষেত্রে সেমির টিকিট পাবে সেই দুদল, যাদের নেট রানরেট বেশি। ভারতের বর্তমান নেট রানরেট -৩.৮০০, যা অত্যন্ত খারাপ, তাই পরের দুম্যাচে বিশাল ব্যবধানে না জেতা ছাড়া বিকল্প নেই সূর্যকুমারদের। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২ পয়েন্টের পাশাপাশি নেট রানরেট +৫.৩৫০ এবং সাউথ আফ্রিকার ২ পয়েন্টে নেট রানরেট +৩.৮০০।
ভারত যদি একটি ম্যাচে হেরে যায়, তাহলে সেমির স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সমীকরণ বলছে, জিম্বাবুয়ের কাছে হারলে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখতে উইন্ডিজের বিপক্ষে জিততেই হবে ভারতকে। পাশপাশি প্রোটিয়াদের বাকি ম্যাচগুলো জিততে হবে, তখন ভারত-জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন দলের সমান ২ পয়েন্ট থাকবে এবং নেট রানরেটে এগিয়ে থাকা দল সেমির টিকিট নিশ্চিত করবে। সেক্ষেত্রে ভারতের এবং সাউথ আফ্রিকার উইন্ডিজের বিপক্ষে বড় জয় লাগবে। এসময় যদি এইডেন মার্কারামরা বাকি দুই ম্যাচ হারেন, তাহলে সূর্যকুমার যাদবের দল ছিটকে যাবে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া।








