তিন দিনের সফরে ভারতে পা রেখেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। কিন্তু তার সফরের শুরুটাই ভালো হল না। মেসিকে দেখতে না পেয়ে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মাঠের মধ্যে তাণ্ডব চালিয়েছেন দর্শকরা। যার ফলে বাধ্য হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কিংবদন্তি মেসিকে। এ ঘটনার পর মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (এডিজি) জায়েদ শামিম। এমনকি দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া উচিত বলে মন্তব্য এডিজির।
‘এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। কোন কোন ধারায় মামলা হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলার ঘটনা সল্টলেক স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ রাখা গেছে। আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধান উদ্যোক্তাকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে।’
সমর্থকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতাও আছে বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, ‘ভক্তরা খুবই বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন। এখানে কোথায় কী দুর্বলতা ছিল এবং তাতে কারা দায়ী তা খুঁজে বের করতে হবে। পুরো ঘটনাটিই ভালোভাবে তদন্ত করা হবে। আমি ভক্তদের টিকিটের টাকাও ফেরত দেয়া উচিত।’
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে শনিবার সকালে যুব ভারতীতে প্রবেশ করে গ্যালারির চারপাশে ঘুরে ‘ল্যাপ অব অনার’ নেয়ার কথা ছিল মেসির। পরে মাঠে আসার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলিউড তারকা শাহরুখ খানেরও। এছাড়া একটি প্রদর্শনী ম্যাচও হওয়ার কথা, যেখানে মেসির অংশ নেয়ার কথা। কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে সবই পণ্ড হয়ে যায়।
ভারতের গণমাধ্যমে খবর, হোটেল থেকে ভার্চুয়ালি প্রায় ৭০ ফুটের ভাস্কর্য উন্মোচনের পর মেসি যুবভারতীতে প্রবেশ করলেও দর্শকরা তাকে সামনে থেকে দেখতে পাননি। কারণ ভিআইপি, আয়োজক ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে গ্যালারি থেকে সাধারণ দর্শকদের পক্ষে কিংবদন্তি মেসিকে দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও মেসির পরিষ্কার দৃশ্য না দেখানোয় হতাশা আরো বাড়ে। একপর্যায়ে মেসিও বিরক্ত হয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান।
এতে হতাশা ও রাগে ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ ভক্ত-সমর্থকরা। অনেকে চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়তে শুরু করেন। ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে পুরো মাঠ চলে যায় ক্ষুব্ধ দর্শকের দখলে। পরিস্থিতি এ সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গ্যালারিতে হাজির হওয়া অনেক দর্শককে চড়া দামে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়েছিল। সর্বনিম্ন ৩৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১৮০০ রুপি খরচ করেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। কলকাতা থেকে শনিবারই হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে মেসির। সেখান থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি সফর দিয়ে শেষ হবে ‘দ্য গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’।








