দ্বিতীয় দিন শেষেই জয়ের আভাস পাচ্ছিল ভারত। তৃতীয় দিনে এসে অবশ্য ম্যাচের ফলও নির্ধারণ হয়ে গেল। জেমস অ্যান্ডারসনের ৭০০ উইকেট ছোঁয়ার দিনে ইংল্যান্ডকে ইনিংস ও ৬৪ রানে জিতল ভারত। প্রথম ইনিংসে ২১৮ রান করা সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে থামে ১৯৫ রানে। ভারত প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৪৭৭ রান। পাঁচ টেস্ট সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জিতে শেষ করেছে রোহিত শর্মার দল।
ধর্মশালায় শনিবার আগের দিনের ৮ উইকেটে ৪৭৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে টিম ইন্ডিয়া। এ দিন স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ করতেই বাকি দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
৬৯ বলে ৩০ রান করা কুলদীপ যাদব উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডাসরন। তার আগে আছেন অফ ও লেগ স্পিনের দুই কিংবদন্তি শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত শেন ওয়ার্ন। ৮০০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে মুরালি এবং ওয়ার্নের সংখ্যা ৭০৮টি।
বিশেষজ্ঞ বোলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন অ্যান্ডারসন। ধর্মশালায় ক্যারিয়ারের ১৮৭তম ম্যাচ খেলছেন এ পেসার। ২০০৩ সালে তার অভিষেক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লর্ডসে। এরপর টানা ২১ বছর ধরে খেলে চলেছেন।
আর ৬৪ রানে ২০ রান জাসপ্রীত বুমরাহ ফিরিয়ে দেন শোয়েব বশির। আর তাতেই থামে ভারতের প্রথম ইনিংস।
সফরকারীদের পক্ষে শোয়েব বশির পান ৫ উইকেট। অ্যান্ডারসন ও টম হার্টলি দুটি করে উইকেট পকেটে পুরেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে সময়টা মোটেও ভালো কাটেনি ইংলিশদের। একের পর এক উইকেট হারিয়েছে। শততম টেস্ট খেলতে নেমে সফরকারীদের চেপে ধরেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি একাই নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। টেস্টে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশিবার পাঁচ উইকেট শিকারের ইতিহাস গড়েছেন এই স্পিনার। এই অফ স্পিনার প্রথম ইনিংসেও নেন ৪ উইকেট।
২৫৯ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারেই হারায় উইকেট। অশ্বিনের বলে বোল্ড হন বেন ডাকেট। ষষ্ঠ ওভারে আরেক ওপেনার জ্যাক ক্রাওলিকেও ফেরান অশ্বিন। শূন্য রানে আউট হন তিনি। দশম ওভারে ওলি পোপও ছিলেন অশ্বিনের শিকার।
৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ইংল্যান্ডকে টানতে পাল্টা আক্রমণের মেজাজ দেখাচ্ছিলেন জনি বেয়ারস্টো। তার আগ্রাসন খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। কুলদীপ যাদবের বলে ৩১ বলে ৩৯ করে করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। সিরিজজুড়ে হতাশার পারফরম্যান্স করা বেন স্টোকস ছিলেন ব্যর্থ। অশ্বিন তাকে বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন।
৫ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। ফিরে এসে আবারও অশ্বিনের আঘাত। এবার বেন ফোকসকে বোল্ড করে টেস্টে ৩৬তম পাঁচ উইকেট তুলে নেন অশ্বিন।
জো রুট ও টম হার্টলি রান তোলার চেষ্টা করলেও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। হার্টলি ও মার্ক উডকে টানা দুই বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বুমরাহ। এরপর শোয়েব বশিরের সঙ্গে নবম উইকেট ৬৮ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমান রুট। শেষ ব্যাটার হিসেবে কুলদীপের বলে ছক্কার চেষ্টায় ৮৪ রানে থামেন রুট। ১২৮ বলের ইনিংসে ১২ চারে একা লড়াই চালান ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার।
ভারতের হয়ে অশ্বিন ৫ উইকেট শিকার করেন। দুটি করে উইকেট দখল করেন বুমরাহ ও কুলদীপ।








