প্রথমবার যুব বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল। ভারতে ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা টুর্নামেন্টে ‘এফ’ গ্রুপে লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, সাউথ কোরিয়া ও ফ্রান্স। শক্তিশালী প্রতিপক্ষে বিপক্ষে নামার আগে ফেডারেশনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যয় মেটাতে। বিশ্বমঞ্চ ঘিরে একদিকে যখন উত্তেজনার পারদ, অন্যদিকে ফেডারেশনের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা।
গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও যুবাদের প্রস্তুতি শুরু হয় আগস্ট থেকে। প্রথমবার এতবড় সুযোগ পেয়েও এতটা সময় অনুশীলনে নামতে না পারার একমাত্র কারণ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান চ্যানেল আইকে জানালেন, ‘আমরা যখন ওমানে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করি, তখন সবেমাত্র আমাদের কমিটি দায়িত্ব নেয়। আমরা চেয়েছিলাম এই দলটাকে (অনূর্ধ্ব-২১) ভালো করে অনুশীলন করাবো। তারপর দেখলাম ফান্ডিং নেই। তখন আমরা ৬ মাসের পরিকল্পনা করলাম। এতে ৭ কোটি টাকা লাগবে। তখন এটাকে কমিয়ে ৫ মাস করা হল। এতেও প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। তখন সভাপতির (বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান) আশ্বাসে আমরা শুরু করলাম। বিদেশি কোচ নিয়োগ দিলাম। তখন কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলো।’

ফান্ডিংয়ের যে ঘাটতি তার অন্যতম কারণ হিসেবে হকি খেলা না হওয়াকে দায়ি করছে ফেডারেশন। রিয়াজুল হাসানের মতে, ‘হকিতে অনেক ব্যাঘাত ঘটে। লিগ বা টুর্নামেন্টে কোন সমস্যা হলে খেলা সম্পূর্ণ বন্ধই হয়ে যায়। তাছাড়া আমরা যারা হকির সাথে আছি তারা মাঠ এবং খেলাকে আলাদা করতে পারিনি। দুটো বিষয় এক হলে আগানো যায় না।’ আজকের হকিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তিনি।
শেষ সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা এবং ঋণ করেই চলছে সব। দেরিতে হলেও বিশ্বকাপের জন্য অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই অর্থ কবে মিলবে সেটিও অনিশ্চিত। এদিকে আগামী সপ্তাহে দেশ ছাড়বে দল।
সরকারী অনুদানের বিষয়টি নিয়ে তিনি বললেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছি। আমরা ২ কোটি টাকার মতো চেয়েছি সেখানে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন পেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে এসেছে। তবে তা এখনও আমরা হাতে পাইনি। কবে আসবে জানি না। এই টাকাটা পেলে আমাদের উপহার হতো। লোনগুলোও পরিশোধ করে দেয়া যেত।’

সবকিছু মাথায় নিয়ে আগস্টে নিয়োগ দেয়া হয় ডাচ কোচ সিগফ্রিড আইকম্যানকে। টুর্নামেন্টের বিচারে পর্যাপ্ত সময় না পেলেও খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বাসী কোচ। স্বল্প সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন খেলোয়াড়দের মধ্যে। কোচ জানালেন, ‘আমি যে অবস্থায় দলকে পেয়েছি তার থেকে বর্তমানে তারা অনেকবেশি উন্নত। বল ধরে রাখা, আক্রমণ, সবখানেই তারা ভালো করছে। আমি বাস্তবতায় বিশ্বাসী। আমাদের প্রতিপক্ষ বেশ শক্তিশালী হলেও আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো।’
আগামী ১৮ নভেম্বর ভারত যাওয়ার কথা দলের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চেন্নাইতে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১। ২৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হবে যুবাদের বিশ্বকাপ অভিযান।








