ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কা এখন নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে, যা দেশটির জন্য ত্রিমুখী আঘাত হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর আঘাতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৬৪৩ জন নিহত ও ১৭৩ জন নিখোঁজ হন। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পুরো বসতি ধ্বংস হয়ে যায়। প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার আগেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে, দেখা দিয়েছে সম্ভাব্য খরার আশঙ্কা। এতে সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সরকার জ্বালানি রেশনিং, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ও পানি–বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের জিডিপির ৪ শতাংশের সমান। এখনো ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এটিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুনর্গঠন তহবিলের বড় ঘাটতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

