দেশে বৈধ আমদানি বন্ধ থাকার পরও বাজারজুড়ে অবৈধ শেভিং ব্লেডের দাপট বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতকোটি টাকার চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় দেশীয় শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রতিবেদনে জানা গেছে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিলেট ইন্ডিয়ার সঙ্গে অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি বাতিল করে। এরপর বৈধ আমদানি বন্ধ থাকলেও বাজারে জিলেট শেভিং ব্লেডের সরবরাহ কমেনি; বরং সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমে তা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযানে প্রায় ৭.৪০ থেকে ৭.৫০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ শেভিং ব্লেড ছিল। এছাড়া ১৮ জুলাই সিলেট-সুনামগঞ্জ সীমান্তে আরও প্রায় ৬ কোটি টাকার অবৈধ কসমেটিকস ও শেভিং ব্লেড জব্দের তথ্য জানায় বিএসএস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব অবৈধ ব্লেড। বৈধ আমদানি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পাইকাররা কীভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করছেন, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল আমদানি করে দেশে উৎপাদন করছেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন—সেই দেশীয় প্রস্তুতকারকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অবৈধ পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই কালোবাজার আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশীয় শিল্পের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব খাতেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।








