চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • স্বাস্থ্য
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

আবর্জনা দিলেই মিলছে খাবার

চ্যানেল আই অনলাইনচ্যানেল আই অনলাইন
৭:১৩ অপরাহ্ন ২৩, আগস্ট ২০২৫
- সেমি লিড, আন্তর্জাতিক, পরিবেশ
A A

ভারতে ধীরে ধীরে ‘গার্বেজ ক্যাফে’র প্রচলন দেখা যাচ্ছে। ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর শহরে এমনই এক ক্যাফে ঘুরে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিবিসি বাংলা। দেখা গেছে, প্লাস্টিক দূষণ এবং মানুষের ওপর ‘গার্বেজ ক্যাফে’র প্রভাব আসলেই কতটা।

ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর শহরের এই ক্যাফেতে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মানুষ এসে হাজির হন গরম খাবারের আশায়। কিন্তু খাবারের খরচের জন্য তারা টাকা দেন না। পরিবর্তে দেন পুরোনো প্লাস্টিকের ব্যাগ, খাবারের মোড়ক, প্লাস্টিকের জলের বোতল ইত্যাদি।

ক্যাফে পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিনোদ কুমার প্যাটেল। তিনি জানিয়েছেন, এক কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যর পরিবর্তে একজন ভরপেট খাবার পেতে পারেন। সেখানে থাকে দু’রকমের তরকারি, ডাল, রুটি, সালাদ ও আচার।

তিনি আরও জানান, ‘আধা কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে তারা জলখাবার পান, যেমন সিঙ্গারা বা বড়া পাভ।’

ছত্তিশগড়ের এই শহর এক অভিনব উপায় বের করেছে যাতে ক্ষুধার নিবারণও হয়, আবার বর্জ্য প্লাস্টিকের কারণে হওয়া দূষণের মোকাবিলাও করা যায়। এখানে ২০১৯ সালে ‘গার্বেজ ক্যাফে’ চালু করা হয়, যার স্লোগান ছিল, ‘মোর দ্য ওয়েস্ট বেটার দ্য টেস্ট।’

এই উদ্যোগের জন্য অর্থ এসেছিল এএমসি’র স্যানিটেশন বাজেট থেকে। শহরের প্রধান বাস স্ট্যান্ডের কাছেই চালু করা হয় এই ক্যাফে।

Reneta

প্যাটেল বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য ছিল অম্বিকাপুরে দু’টো বিদ্যমান সমস্যার মোকাবিলা করা- প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ক্ষুধা।’

বিনোদ প্যাটেল জানিয়েছেন, এই ক্যাফে প্রতিদিন গড়ে ২০ জনেরও বেশি মানুষকে খাওয়ানো হয়।

নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষত ঘরহীন মানুষ এবং যারা আবর্জনা সংগ্রহ করে জীবিকা চালান তাদের রাস্তা বা আস্তাকুঁড়ে থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করতে উৎসাহ দেওয়া। ওই বর্জ্যের বিনিময়ে তাদের গরম খাবারের ব্যবস্থা করা।

এই ক্যাফেতে নিয়মিত আসেন স্থানীয় বাসিন্দা রশ্মি মণ্ডল। তিনি প্রতিদিন সকালবেলা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের খোঁজে।পুরনো খাবারের মোড়ক থেকে শুরু করে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল- কিছুই বাদ যায় না তার সংগ্রহের তালিকা থেকে। এটাই তার কাছে বেঁচে থাকার একটা মাধ্যম।

তিনি বলেছেন, ‘কিন্তু এখন যে প্লাস্টিক সংগ্রহ করছি তার বদলে বাড়ির লোকের জন্য খাবার কিনতে পারছি। এটা আমাদের জীবনে একটা বড় বদল এনেছে।’

এই ক্যাফে চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে কাজ করছেন সারদা সিং প্যাটেল। তিনি জানিয়েছেন, ক্যাফেতে আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অত্যন্ত দরিদ্র।

তার কথায়, ‘ক্যাফেতে প্লাস্টিকের পরিবর্তে খাবার পাওয়া যায়। তবে আমরা শুধু মানুষের পেট ভরাতে সাহায্য করছি না, পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখার ক্ষেত্রেও এর অবদান রয়েছে।’

ভারত সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন আরবান’-এর আওতায় অম্বিকাপুরের স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা রীতেশ সাইনি জানিয়েছেন, এই ক্যাফে শহরের প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এই ক্যাফে ২০১৯ সাল থেকে প্রায় ২৩ টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছে। তা না হলে এই আবর্জনা মাটিতে গিয়ে স্তূপ হতে থাকত।

২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ওই শহরে ল্যান্ডফিলের পরিমাণ ছিল ৫.৪ টন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে দুই টনে। ক্যাফেতে একত্রিত হওয়া আবর্জনা অম্বিকাপুরের সামগ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের একটা ছোট্ট অংশ মাত্র। ২০২৪ সালে ওই শহরের সামগ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ২২৬ টন।

রীতেশ সাইনির কথায়, ‘এই শহরে দৈনিক ৪৫ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এককালে এখান থেকে ৩.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১৬ একর বিস্তৃত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবর্জনা ফেলা হতো। বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা নিয়ে হিমশিমও খেতে হয়েছিল।’

তবে ২০১৬ সালে এএমসি ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে পার্কে রূপান্তরিত করে। ‘জিরো-ওয়েস্ট ডিসেন্ট্রালাইজড সিস্টেম’ বা শূন্য-বর্জ্য বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করা হয় যাতে এই জাতীয় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দরকারই না পড়ে।

সংগৃহীত প্লাস্টিক রিসাইকেল করে ছোট ছোট গ্র্যানিউল বা দানা তৈরি করা হয় যা রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। অথবা সেগুলো রিসাইক্লারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় যেখান থেকে স্থানীয় সরকারি খাতায় অর্থ আসে।

২০২০ সালের সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ওয়েট ওয়েস্ট’ বা ভেজা বর্জ্যকে কম্পোস্ট করা হয় এবং যে অল্প পরিমাণ বর্জ্যকে রিসাইকেল করা যায় না সেগুলোকে জ্বালানির জন্য সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়। এই প্রচেষ্টার হাত ধরেই অম্বিকাপুর এখন ‘জিরো ল্যান্ডফিল সিটি’ (যে শহরে বর্জ্য মাটিতে গিয়ে স্তূপ হয় না) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

গার্বেজ ক্যাফেতে আসা প্লাস্টিক এএমসি পরিচালিত স্থানীয় বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

অম্বিকাপুরে এখন ২০টা বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্র রয়েছে যেখানে সংগ্রহ করার পর বর্জ্যকে বাছাই করার সময় ৬০টিরও বেশি ভাগে ভাগ করা হয় যাতে সর্বাধিক পরিমাণে রিসাইক্লিং সম্ভব হয়। এই কেন্দ্রগুলোতে ৪৮০ জন নারী নিয়োগ করা হয়েছে যাদের যাদের “স্বচ্ছতা দিদি” বলে সম্বোধন করা হয়। তারা এই সেন্টারগুলোতে বর্জ্য পৃথকীকরণের পাশাপাশি প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহস্থালির আবর্জনাও সংগ্রহ করেন।

পশ্চিম ভারতের গুজরাতের আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মিনাল পাঠক শহুরে পরিবেশে জলবায়ু প্রশমন নিয়ে গবেষণা করেন।

তিনি জানিয়েছেন, মৌলিক সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই আবর্জনা সংগ্রহ করলে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ধারালো বস্তু এবং বিষাক্ত বর্জ্যের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থেকে যায়। আবর্জনা সংগ্রহকারী ব্যক্তির অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

‘স্বচ্ছ অম্বিকাপুর মিশন সিটি লেভেল ফেডারেশন’-এর সভাপতি শশীকলা সিনহা জানিয়েছেন ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করার পর থেকে এই কেন্দ্রগুলো প্লাস্টিক, কাগজ, পিচবোর্ড, ধাতু এবং ‘ই-ওয়েস্ট’ ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টন শুষ্ক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা রিসাইক্লিং করেছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের এই ধারণা এত ভালো কাজ করেছে যে সেটা ‘অম্বিকাপুর মডেল’ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এখন ছত্তিশগড়ের ৪৮টি ওয়ার্ডে এই মডেল ব্যবহার করা হয়।

অম্বিকাপুরে জিরো-ওয়েস্ট মডেলের নেতৃত্ব থাকা ঋতু সাঁই জানিয়েছেন, শুধু ওই শহরই নয়, অন্যান্য মাঝারি আকারের শহরগুলতেও এই একই সমস্যার সমাধান করা তাদের লক্ষ্য।

এই প্রসঙ্গে ২০২৫ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লেখা একটা ব্লগে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটা মডেল তৈরি করা যা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব, পরিবেশগতভাবে টেকসই এবং আর্থিক দিক থেকেও কার্যকর।’

ভারতের অন্যান্য প্রান্তেও ‘গার্বেজ ক্যাফে’ গড়ে উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে একটা প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেই বছরই তেলেঙ্গানার মুলুগু শহরে একটা নতুন প্রকল্পের আওতায় এক কেজি প্লাস্টিকের বদলে সেই ওজনের চাল দেওয়া শুরু করেছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকের মাইসুরুতে, ২০২৪ সালে একটা প্রকল্প চালু করা হয় যার আওতায় স্থানীয়রা যে কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইন্দিরা ক্যান্টিনে’ ৫০০ গ্রাম প্লাস্টিকের বদলে জলখাবার খেতে পারেন। এক কেজি প্লাস্টিকের বদলে পেতে পারেন পেট ভরা খাবার।

উত্তরপ্রদেশে এমনই এক উদ্যোগের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্যের বদলে নারীদের হাতে স্যানিটারি প্যাড তুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে, এই ধরনের প্রকল্পগুলো যে সব সময় সহজেই পরিচালিত হয়, তা নয়।

দিল্লিতে ২০২০ সালে ‘গার্বেজ ক্যাফে’ চালু করা হয়েছিল প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। এর ২০টারও বেশি আউটলেট ছিল। কিন্তু এই উদ্যোগ তেমন সফলতা পায়নি।

ট্যাগ: অম্বিকাপুর শহরগার্বেজ ক্যাফেবর্জ্যস্বচ্ছ ভারত মিশন আরবান
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

মিঠামইনে বৃদ্ধ কৃষককে গলা কেটে হত্যা

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

‘এখানে চ্যালেঞ্জটা অন্যরকম, ফুটবল আর ফুটসাল তো এক না’

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

আমাদের মূল লক্ষ্য এশিয়াতে ভালো করা: সুমাইয়া

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

সাফজয়ী গোলরক্ষক স্বপ্নার পছন্দ বিশ্বজয়ী মার্টিনেজ

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

আমরা জাতীকে আর দ্বিধা-বিভক্ত দেখতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT