রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র আইসিইউ সংকটের কারণে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। গত আড়াই মাসে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে মারা গেছে অন্তত ৫৩ জন শিশু। এর মধ্যে শুধু ১১ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মারা গেছে ২২ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃত শিশুদের বয়স ছিল এক মাস থেকে ১২ বছরের মধ্যে। গুরুতর অসুস্থ এসব শিশুকে সময়মতো আইসিইউতে ভর্তি করা সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে চরম ভিড়। একটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশু রাখা হচ্ছে। বেড খালি না থাকায় অনেককে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরাও।
রামেক হাসপাতালের ইএমও ইনচার্জ ও মুখপাত্র (মিডিয়া) ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন শিশু মারা যাচ্ছে। আইসিইউ শয্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০টি করা গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
এদিকে হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।
বর্তমানে শিশু আইসিইউ ইউনিটে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন। সিরিয়াল না পেয়ে স্বজনদের মধ্যে দেখা গেছে চরম হতাশা ও কান্না। হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২ শয্যার আইসিইউ থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, আসনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
রাজশাহীসহ দেশের অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকার অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ শিশু আইসিইউ নেই। বিভাগীয় পর্যায়ে সীমিত উদ্যোগে কিছু আইসিইউ চালু থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।








