এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্রেইরি ভিউতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। টাইগাররা ব্যাটিং-বোলিং দুটোতেই ব্যর্থ হয়েছেন। ভিন্ন চিত্র ছিল কেবল তানজিদ তামিম, তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেনের বেলায়। খুব বেশিকিছু করতে না পারলেও দলের পারফরম্যান্সের তুলনায় বেশ ভালো করেছেন তিনজনই। সেটির ফলও এসেছে। আইসিসির সবশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে মন জুড়ানো উন্নতি হয়েছে তাদের। অবনতি হয়েছে শান্ত-লিটন-শরিফুল-সাকিবের।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের তিনদিন আগে র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বোলিংয়ে ৩৮ ধাপ এগিয়েছেন রিশাদ। ৮৮ রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪৭৩ পয়েন্টে নিয়ে এসেছেন ৫২ নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪.৪০ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৪ উইকেট। দুধাপ উন্নতি করে বাংলাদেশি বোলারদের শীর্ষে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৫৮৩ পয়েন্ট নিয়ে ২৩ নম্বরে উঠেছেন কাটার মাস্টার। শীর্ষস্থানের দখল ছিল আগে তাসকিনের কাছে। চোটের কারণে সিরিজে খেলতে পারেননি। তিনি পাঁচ ধাপ নিচে নেমে ৫৬২ পয়েন্ট নিয়ে আছেন ২৮ নম্বরে।
একধাপ উন্নতি করেছেন হাসান মাহমুদ। ৪৬৩ পয়েন্ট নিয়ে উঠেছেন ৫৬ নম্বরে। বল হাতে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে নাসুম আহমেদের। সবশেষ দুটি সিরিজে না থাকা তারকার অবনতি হয়েছে ১০ ধাপ। ৪৬৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমেছেন ৫৫ নম্বরে। শরিফুল ইসলাম ও শেখ মেহেদী নেমেছেন ৩ ধাপ। ৫৪৮ রেটিং নিয়ে মেহেদী ৩২ নম্বরে, ৪৮৮ রেটিং নিয়ে শরিফুল ৪৫ নম্বরে আছেন। ৫৪৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে একধাপ নিচে নেমে ৩১ নম্বরে আছেন সাকিব। ৭২২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বল হাতে শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভানিডু হাসারাঙ্গার রেটিং পয়েন্ট ৬৮৭।
টাইগার ব্যাটারদের মধ্যে উন্নতি হয়েছে কেবল তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের। দারুণ করেছেন তানজিদ তামিম। জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া ব্যাটার ৩৪ ধাপ উন্নতি করে এসেছেন সেরা একশোর ঘরে। ৪০৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৮৪ নম্বরে উঠেছেন টাইগার ওপেনার। তাওহীদ হৃদয় উন্নতি করেছেন ১২ ধাপ। ৪৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে উঠেছেন ৬০ নম্বরে।
ব্যাটারদের মধ্যে টাইগারদের শীর্ষে অবস্থান লিটন দাসের। সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা প্রভাব ফেলেছে তার র্যাঙ্কিংয়ে। পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ৫২১ রেটিংয়ে নেমে গেছেন ৪০ নম্বরে। সেখানে যৌথভাবে অবস্থান করছেন ইংল্যান্ডের লিয়াম লিভিংস্টোনের সঙ্গে। টাইগার অধিনায়ক শান্ত নেমেছেন ৪ ধাপ। ৫১৪ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিংয়ের সাথে যৌথভাবে আছেন ৪৪ নম্বরে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবনতি হয়েছে দুধাপ। ৪১২ পয়েন্ট নিয়ে ৭৭ নম্বরে সঙ্গী হয়েছেন স্কটল্যান্ডের ম্যাথিউ ক্রসের। ৩ ধাপ অবনতি হয়েছে সাকিব আল হাসানের। ৪০৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নেমেছেন ৮২ নম্বরে। সেখানে কাতারের মুহাম্মদ তানভীর আহমেদের সঙ্গে অবস্থান করছেন যৌথভাবে। ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে আফিফ হোসেনের। ১০ ধাপ পিছিয়ে ৪০২ রেটিং নিয়ে ৮৮ নম্বরে নেমেছেন। ৮৬১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের সূর্যকুমার যাদব। ৭৮৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। ৭৬৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান।
অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ হারিয়েছেন সাকিব। পাঁচ রেটিং পয়েন্ট কমায় নেমেছেন দুইয়ে। ২২৮ রেটিং নিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আসন দখলে নিয়েছেন হাসারাঙ্গা। মোহাম্মদ নবী তৃতীয় স্থানে আছেন। আফগান তারকার ঝুলিতে ২১৮ রেটিং পয়েন্ট। ২১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। সাউথ আফ্রিকার এইডেন মার্করামকে পেছনে ফেলে পাঁচে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্কাস স্টয়নিস। ২০৪ রেটিং পয়েন্ট তার। ১৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে মার্করাম।
অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে টাইগারদের মধ্যে উন্নতি করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও রিশাদ। ৫ ধাপ এগিয়ে ৬৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে উঠেছেন ৫৬ নম্বরে। ১৪ ধাপ এগিয়ে ৬১ নম্বরে উঠেছেন রিশাদ। ৬১ রেটিং নিয়ে যৌথভাবে অবস্থান করছেন আয়ারল্যান্ডের হ্যারি টেক্টরের সঙ্গে।
সবচেয়ে অবনতি হয়েছে শেখ মেহেদীর। ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ৭ ধাপ পিছিয়ে নেমেছেন ৪৭ নম্বরে। আফিফ নেমেছেন চার ধাপ। ৫৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়ের লুক জংয়ের সাথে আছেন ৬৭ নম্বরে। সৌম্য সরকার নেমেছেন দুধাপ। ৩৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডের ম্যাক্স ও’ডাউডের সাথে আছেন ৯৭ নম্বরে। নিয়মিত টি-টুয়েন্টি খেলার সুযোগ না মেলায় র্যাঙ্কিংয়ের সেরা একশোতে স্থান হারিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।








