রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) এর নিজস্ব কারিকুলাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানায় তারা।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আইবিএ’র নিজস্ব কারিকুলাম পরিবর্তন করা চলবে না’, ‘পূর্বের কারিকুলাম পুনর্বহাল চাই’, ‘এক দফা এক দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিকুলাম পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যা কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। প্রায় তিন মাস ক্লাস করার পর কারিকুলাম পরিবর্তন করায় সেশনজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের পূর্বের কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানের ছিল৷ কিন্তু পরিবর্তন করায় সেই কারিকুলামের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্যতা নেই৷
আইবিএ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক জিন্নাত আরা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কারিকুলামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শুধুমাত্র তাদের মিড-টার্ম পরিক্ষাটা নেওয়া হবে না আর সব ঠিকই আছে। এছাড়া ওইখানে উপস্থিত প্রভাষক শাহেদ পারভেজ বহিষ্কৃত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ বলেন, প্রতিটি বিভাগে সিলেবাস বা কারিকুলাম প্রণয়ন করার জন্য একটা কমিটি থাকে। তারা চাহিদা অনুযায়ী সিলেবাস প্রণয়ন করেন। এরপর সেটি ডিন বরাবর পেশ করেন। ডিন অফিস সেটিকে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করলে সিন্ডিকেট অনুমোদন দেন। এই বিষয়ক একটা কমিটি কাজ করেন যেটা একাডেমিক কাউন্সিল নামে পরিচিত। যেখানে অনেক সিনিয়র অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা থাকেন। উনাদের একাডেমিক কাউন্সিলে যোগাযোগ না করে এইভাবে প্রশাসন ভবনের সামনে রাস্তায় নামা উচিত হয়নি।
এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জনিয়ে ইনস্টিটিউটের প্রভাষক এটিএম সাহেদ পারভেজ বলেন, ৭টা ব্যচের শিক্ষার্থীরা একটা সিলেবাস নিয়ে পড়াশোনা করছে। আর নতুন শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম নিয়ে পড়াশোনা করলে জব সেক্টরে তারা সমস্যার সম্মুখীন হবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা কষ্ট হয়ে পড়বে। আইবিএতে কারিকুলাম পরিবর্তন হয়েছে অথচ আইবিএ শিক্ষকদের হুশ নেই, তারা সবজি চাষে ব্যস্ত। আইবিএ’তে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্বেও প্রশাসন অন্য বিভাগ থেকে নিয়ে এসে ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে বসিয়ে দেয়। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কর্মসূচিতে আইবিএ’র ৮ম ব্যাচের অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন৷








