ফেনীর সোনাগাজীতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদল নেতার ধর্ষণের শিকার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন টমটমচালক স্বামী।
ধর্ষণের ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নে ঘটলেও তালাকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে পুরো উপজেলায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
টমটম চালকের নাম কামাল উদ্দিন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সেনেরখিল গ্রামের বেল্ট বাড়ির রকিক উদ্দিনে ছেলে কৃষকদল নেতা মোহাম্মদ সেন্টু। একইসাথে তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধূ ধর্ষণের বিষয়ে জানিয়েছে ভিন্ন তথ্য।
টমটমচালক কামাল উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে আমার স্ত্রী কামরুন নাহারের সাথে মনোমালিন্য চলছে। এ সুযোগে কৃষকদল নেতা সেন্টু ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে গোপন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি অনুমান করতে পেরে ৩ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে স্ত্রীকে শাসন করলেও সে গোপন সম্পর্ক থেকে ফেরেনি। গত কিছুদিন আগে কাউকে না জানিয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সেন্টুর সাথে কুমিল্লা বেড়াতে যায়। একদিন পর বাড়িতে ফিরে আসলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে শাসন করি। এ নিয়ে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা শালিসের মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেয়।
তিনি আরও বলেন. গত মঙ্গলবার রাতে টমটম চালানো শেষে বাড়িতে ফিরে দেখি-ঘরে আমার স্ত্রী ও সেন্টু অবৈধ কাজে লিপ্ত রয়েছে। আমি দরজা ধাক্কা দিলে তারা দরজা খুলে কাউকে না জানানোর জন্য আমার গলা চেপে ধরেন। একপর্যায়ে সেন্টু আমাকে জোর করে তার মোটরসাইকেল তুলে নিয়ে পাশ্ববর্তী রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর স্ত্রীকে শাসন করলে সে অনুতপ্ত না হয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করলে আমি তাকে তালাক দিই।
কামাল তার জীবনের নিরাপত্তা চয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও কৃষকদল নেতা সেন্টুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অপরদিকে, গৃহবধু কামরুন নাহার তালাকের কথা স্বীকার করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফেরার পর পরিবারের ভরণ-পোষনের কথা বিবেচনা করে আমি আমার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে তাকে টমটম কিনে দিই। ওই টাকা ফেরত চাইলে তার সাথে আমার কলহ শুরু হয়। সে বিভিন্ন উসিলায় কয়েকবার আমাকে মারধর করেছে। সেন্টুর সাথে আমার কোন পরকিয়া সম্পর্ক নেই। তাকে আমি চিনিও না। শালিস বৈঠকে সেন্টুকে সে ডেকে এনেছে। আমাকে মারধরের পর থানায় অভিযোগ করার করলে সে মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে অন্যায়ভাবে তালাক দিয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী স্বামী- স্ত্রীর অভিযোগ ও পাল্ট অভিযোগের বিষয়ে জানাচ্ছে ভিন্ন তথ্য।
রমজান আলী মেম্বার বাড়ি ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গৃহবধু কামরুন ও কৃষকদল নেতা সেন্টুর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সম্পর্কের বিষয়ে এলাকার সবাই জানে-এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বিয়টি এতদূর গড়ানোর জন্য দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের বলে সন্দেহ করছেন।
তবে সেন্টুর প্রভাবের কারণে তারা সরাসরি কথা বলতে রাজি হয়নি।
অভিযুক্ত কৃষকদল নেতা সেন্টু তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দলের সামান্য কর্মী; আমার কোন পদ পদবি নেই। এ নারীর সাথে আমার কোন অবৈধ সম্পক নেই। ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করিনি। এলাকার কুচক্রি মহল টমটমচালক কামাল উদ্দিনকে ফুসলিয়ে আমার মান সন্মান নষ্ট করতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে।







