আত্মহত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কালজয়ী ইরানি ছবি ‘টেস্ট অব চেরি’র সেই বাদি চরিত্রে অভিনয় করা হুমায়ুন এরশাদি আর নেই। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৮ বছর বয়সে মঙ্গলবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামির ‘টেস্ট অব চেরি’ ও পরবর্তীতে ‘দ্য কাইট রানার’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পান হুমায়ুন এরশাদি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এরশাদি ১১ নভেম্বর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪৭ সালে ইসফাহানে জন্ম নেওয়া এরশাদি প্রথম জীবনে ছিলেন একজন স্থপতি। জীবনের শুরুতে কখনো ভাবেননি যে একদিন তিনি ইরানি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠবেন।
তার অভিনয়ে আসার গল্পটিও যেন এক সিনেমার মতোই। এক সাক্ষাৎকারে এরশাদি বলেছিলেন, বিশ্বখ্যাত পরিচালক আব্বাস কিয়ারোস্তামি একদিন তেহরানের ট্র্যাফিকে আটকে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করেন এবং হঠাৎই জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী?
সেই আকস্মিক সাক্ষাৎ থেকেই জন্ম নেয় টেস্ট অব চেরি (১৯৯৭)। যে চলচ্চিত্রটি পরে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাম দ’অর পুরস্কার জিতে নেয়।
বছর কয়েক পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি আর কিয়ারোস্তামি আমার গাড়িতে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার চরিত্রটা কেমন? তিনি বললেন, ‘তোমার চরিত্র একজন ইতালীয় স্থপতি।’ আমি তখনও একজন স্থপতি ছিলাম, ইতালিতে কাজ করতাম। সিনেমায় আমি নিজের পোশাক পরেছিলাম, নিজের গাড়ি চালিয়েছিলাম। সংলাপের সময় কিয়ারোস্তামি নিজেই আমার সামনে দাঁড়াতেন— আমি কোনো চরিত্রে অভিনয় করছিলাম না, আমি নিজেকেই প্রকাশ করছিলাম।”
এরশাদি একবার গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, “কিয়ারোস্তামি কখনো পেশাদার অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতেন না। তাঁর চলচ্চিত্রের অপেশাদার অভিনেতারা সাধারণত আর অভিনয়ে ফিরতেন না। বলতে পারি, তাঁর ছবির পর একমাত্র আমিই নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে গেছি।”
টেস্ট অব চেরি–র পর তিনি পুরোপুরি সিনেমায় মন দেন এবং ইরান ও আন্তর্জাতিক প্রযোজনার বহু ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁর সবচেয়ে প্রশংসিত আন্তর্জাতিক কাজ ছিল দ্য কাইট রানার (২০০৭)-এ বাবা চরিত্রে অভিনয়, যা তাঁকে পশ্চিমা দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। চলচ্চিত্রটি অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোবসসহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল।
এরপর তিনি অভিনয় করেন ক্যাথরিন বিগেলোর জিরো ডার্ক থার্টি (২০১২), অ্যান্টন করবিনের আ মোস্ট ওয়ান্টেড মেন (২০১৪), এবং আসিফ কাপাডিয়ার আলি এন্ড নিনো (২০১৬)-এ। ইরান








