জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ২০২৪ সালের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার-বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। এর আগে দপ্তরের ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মাঝামঝি সময়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং পুলিশ ও আওয়ামী লীগ দলের যুব সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর তিন দিন পর অর্থাৎ ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ‘প্রধান উপদেষ্টা’ (প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য) একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এরপর তিনি দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ সত্ত্বেও সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করেছে।
সংঘর্ষের তথ্যে বলা হয়, একটি সংস্থা দুই মাসেরও কম সময়ে কমপক্ষে ৯৮৬ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে। এছাড়াও অন্য একটি সংস্থা অভিযোগ করেছে এক হাজার ৪২৩ জন নিহত এবং ২২ হাজার জন আহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং নিরস্ত্র।
যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং ছাত্রলীগের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের উপর সরাসরি গুলি চালাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, পূর্ববর্তী সরকার বেআইনি হত্যাকাণ্ড; গুম; নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক, বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি; স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার বা আটক; পূর্ববর্তী সরকারের অন্য দেশে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দমন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমে স্বাধীনতার উপর গুরুতর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল, যার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন রয়েছে।
এতে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ৮০০ টিরও বেশি সাইবার অপরাধের মামলা বিচারাধীন ছিল, যার অধিকাংশ সরকারের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগস্ট থেকে এক হাজারটিরও বেশি ‘বক্তৃতা-ভিত্তিক’ মামলা প্রত্যাহার এবং আটকদের মুক্তি দেওয়ার কথা বলছে।
এছাড়াও প্রতিবেদনে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর চলমান দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয় এবং নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে দমন-পীড়নের জন্য সাবেক সরকারকে অভিযুক্ত করা হয়।
গত বছরের আগস্ট থেকে কিছু উন্নতি স্বীকার করার সময় মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঠামোগত সমস্যা এবং অতীতের নির্যাতনের জন্য দায়মুক্তির উত্তরাধিকার বাংলাদেশের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।








