সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মধ্যরাতে আটক ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং আদালতে উপস্থাপনের সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান সংস্থাটি মনে করে, একজন নাগরিক, বিশেষত একজন নারীকে গভীর রাতে আটক করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে তার নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ধানমন্ডিতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় যান। সেখান থেকে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। একজন নাগরিককে, বিশেষত একজন নারীকে এরকম মধ্যরাতে আটক দেখানোর যৌক্তিকতা কী ছিল? পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনের বেলায় অধিক স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সংস্থাটি জানায়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। সাবেক স্পিকারকে আদালতে উপস্থাপনের সময় যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাকে ‘ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে তাকে যে হুড়োহুড়ির মুখে পড়তে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আসকের মতে, বিচারপ্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। এর ব্যত্যয় নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তালিকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শিরীন শারমিনের নাম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ মধ্যরাতে আটকের ঘটনা জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
আসক বলছে, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় আচরণে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার প্রতিফলন ঘটানো। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান।







