চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকদের এক অংশ শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। সেখানে অংশগ্রহণ করেছেন আইন অনুষদের কয়েকজন শিক্ষক।
আজ ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে এই মানববন্ধন হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা দাবি করেন, শিক্ষক সমিতির কার্যকরী কমিটির একাংশ তাদের অযৌক্তিক দাবিকে শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত হিসেবে চালাচ্ছে। তারা শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে বলে দাবি করেন।
সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, শিক্ষক সমিতি ক্ষমতা চায়, গবেষণা চায় না। শিক্ষক সমিতি বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে উপাচার্যের পদত্যাগ চায়। আপনারা এই নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করে জনগণ ও দেশকে বাঁচান। সম্প্রতি যা দেখছি, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় বা রাষ্ট্রের বিষয় বেশি কিছু নয়। তারা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়ে যে এত অভিযোগ তা আইন এবং নিয়ম মেনেই নিয়োগ হচ্ছে।
মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, যারা এই নিয়োগ বন্ধ করতে চাইছে তারা চায় না আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিয়োগ হোক। জোরপূর্বক নিয়োগ রোধ করা অযৌক্তিক। আইন বিভাগে প্রভাষকের প্রয়োজন। শিক্ষক না থাকায় ক্লাসলোড বেশি হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ১০ বছর ধরে বাংলা বিভাগে কোনো নিয়োগ হচ্ছেনা। যারা গত ১০ বছরে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে, ভালো ফলাফল করেছে কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেনা। এটা তাদের জন্য অমানবিক। বাংলা বিভাগে যদি এখন নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন না হয় তবে অবসরপ্রাপ্ত বা পদত্যাগ করা শিক্ষকরা কি অপ্রয়োজনীয় ছিলো?
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তসলিমা বেগম জানান, ২০১৯-এ সর্বশেষ নিয়োগ হয়েছে বাংলা বিভাগে। এটি ভুল তথ্য। তাছাড়া বাংলা বিভাগে যারা অবসর গ্রহণ বা পদত্যাগ করেছেন, তাদের ক্লাসলোড আমরা সবাই ভাগাভাগি করে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন,বাংলা বিভাগে ইউজিসির নির্ধারিত ক্লাস লোড থেকেও কম ক্লাস শিক্ষকেরা ভাগ করে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলা বিভাগের ক্লাসলোড নির্দেশিকাতে একজন শিক্ষককে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১ টি ক্লাস নিতে হবে। ইউজিসির নির্ধারিত ক্লাসলোড ১২ টি। অপরদিকে আইন অনুষদের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ক্লাসলোড ১২ টি ও গড়ে ৬.৪৫ টি।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিবুল আজিজ বলেন, বাংলা বিভাগে ক্লাসলোড বেশি হয়ে যাওয়ার পরও প্ল্যানিং কমিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য সুপারিশ না করলে বিশেষ নিয়মে নিয়োগ দেওয়াটা উপাচার্যের ক্ষমতার যৌক্তিক প্রয়োগ। কিন্তু এখানে তো তা হচ্ছেনা।
এই দিকে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচিতে অবস্থানরত শিক্ষকেরা এভাবে নিয়োগ দেওয়াকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে অভিহিত করেন।








