মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে লোকসভার সদস্যপদের অযোগ্য ঘোষণার প্রতিবাদে আজ পুরো ভারতে দিনব্যাপী আন্দলন করছে ভারতীয় কংগ্রেস। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। আন্দোলনের সময় আজ গুজরাটে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
আজ ভারতের দিল্লির রাজ ঘাটে কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খার্গ এবং সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা ‘সংকল্প সত্যগ্রহ’ নামক আন্দলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান জগদীশ তাহোর, বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা অমিত চাভদা এবং সিনিয়র নেতা ভারতসিংহ সোলাঙ্কিসহ দলীয় কর্মীরা প্রতিবাদ করতে আহমেদাবাদের লাল দরজায় পৌছালে তাদের আটক করে পুলিশ।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আজ রবিবার কংগ্রেসের এই আন্দলনের প্রতিবাদ করে বলেছেন, “দুর্নীতিতে জর্জরিত মানুষ সত্যগ্রহ করতে পারে না।”
গান্ধী পরিবারের সদস্য এবং কংগ্রেস নেত্রি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা আজ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “তারা আমাদের পরিবারকে ক্রমাগত অপমান করেছে, এরপরও রাহুল গান্ধী মোদিজির কাছে গিয়ে সংসদে তাকে আলিঙ্গন করেছেন। আমার ভাই মোদিজিকে বলেছিলেন তার প্রতি তার কোন ঘৃণা নেই। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন তাদের মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু কোন ঘৃণা নেই। এটা কি দেশের ঐতিহ্য? একজন ব্যক্তিকে অপমান করতে থাকা? আমার পরিবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র কী তা শিখেছে। আমরা ভয় পাব না।”
কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে আজ আন্দলনের ভাষণে বলেন, “বিজেপি রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে দিচ্ছে না। রাহুল গান্ধী জাতি এবং জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন। আমরা থামব না। আজ আমরা গান্ধী স্মারকে যাচ্ছি এবং সেখানে সত্যগ্রহ করব।”
আন্দোলন শুরুর আগে দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি চিঠিতে জানায়, আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্র্যাফিকের কারণে কংগ্রেসের আন্দোলনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং রাজঘাট এবং এর আশেপাশে সিআরপিসি ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞামূলক ১৪৪ ধারা আদেশ জারি করা হয়েছে। পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতা কর্মীরা।
ভারতের লোকসভার সদস্য রাহুল গান্ধীকে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য মানহানির মামলায় গুজরাটের একটি আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের এই আদেশের জের ধরে সম্প্রতি সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন তিনি।








