আপনার ফোনটা কি আগের মতো চলছে না? অ্যাপ খুলতে দেরি হচ্ছে? স্ক্রলিং করলে ঝাঁকুনি খাচ্ছে? নতুন ফোন কেনার টাকা নেই কিন্তু পুরানো ফোনের স্লো স্পিড নিয়ে চলাও কষ্টকর?
চিন্তা করবেন না! আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ৫টি গোপন টিপস যেগুলো মেনে চললে পুরানো ফোন আবার নতুনের মতো ফাস্ট হয়ে যাবে।
অ্যানিমেশন স্পিড কমিয়ে দিন
আপনি হয়তো জানেন না, আপনার ফোনের প্রতিটা অ্যাপ খোলার সময়, উইন্ডো পরিবর্তনের সময় একটা অ্যানিমেশন চলে। এই অ্যানিমেশনগুলো দেখতে সুন্দর লাগে বটে, কিন্তু পুরানো ফোনে এগুলো স্লো করে দেয়। ভালো খবর হলো এই অ্যানিমেশন কমিয়ে দেওয়া যায়, এমনকি একদম বন্ধও করা যায়। ফলে ফোনের কাজ করার স্পিড কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট করুন
আপনার ফোনে এখন কয়টা অ্যাপ চালু আছে? হয়তো ভাবছেন কোনোটাই না, কারণ আপনি তো সব বন্ধ করেছেন। কিন্তু আসলে অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে চলতে থাকে। Facebook, WhatsApp, Gmail, YouTube – এরা সব সময় জেগে থাকে, আপনার RAM এবং প্রসেসর পাওয়ার খেয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট করে দিলে ফোনের স্পিড অনেক বাড়ে। একসাথে অনেক অ্যাপ চালালেও ফোন আটকে যাচ্ছে না।
স্টোরেজ পরিষ্কার রাখুন
স্টোরেজ ভরা মানে ফোন স্লো। এটা একটা সোজা সমীকরণ। যখন ফোনের স্টোরেজ ৮০-৯০% ভর্তি হয়ে যায়, তখন সিস্টেম কাজ করতে জায়গা পায় না। ফলে সবকিছু ধীর হয়ে যায়। তাই পরিষ্কার করতে হবে, কিন্তু শুধু ক্যাশ ক্লিয়ার করলেই হবে না, ব্যাপক পরিষ্কার দরকার।
প্রথমে ডুপ্লিকেট ছবি এবং ভিডিও খুঁজে বের করুন। Google Photos বা Files by Google অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই ডুপ্লিকেট ফাইল মুছে ফেলতে পারবেন। একই ছবি তিনবার আছে? দুটো ডিলিট করে দিন। ব্লার বা খারাপ ছবি রেখে দেওয়ার মানে নেই, মুছে ফেলুন। আর সবশেষে, ক্যাশ এবং জাঙ্ক ফাইল পরিষ্কার করুন। Files by Google অ্যাপ চমৎকার কাজ করে এক্ষেত্রে।
অটো-স্টার্ট অ্যাপ বন্ধ করুন
ফোন চালু হওয়ার সাথে সাথে অনেক অ্যাপ নিজে নিজে চালু হয়ে যায়। এগুলোকে বলে Auto-start apps। Facebook, Messenger, Spotify, TikTok – এরা সব ফোন বুট হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় এবং RAM দখল করে রাখে। এতে ফোন শুরু থেকেই স্লো হয়ে যায়।
সব অ্যাপই Auto-start থেকে বাদ দিতে হবে এমন নয়। WhatsApp, Alarm Clock, Calendar – এগুলো চালু রাখা দরকার। কিন্তু গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ভিডিও স্ট্রিমিং – এগুলোর Auto-start বন্ধ করে দিন। দরকার হলে ম্যানুয়ালি খুলবেন। এই পরিবর্তন করার পরে ফোন রিস্টার্ট দিন। দেখবেন ফোন অনেক দ্রুত বুট হচ্ছে এবং চালু হওয়ার পরেই স্পিড ভালো পাচ্ছে।
ফ্যাক্টরি রিসেট
এতসব করার পরেও যদি ফোন স্লো থাকে, তাহলে শেষ অস্ত্র হলো Factory Reset। এটা ফোনকে একদম নতুন কেনার মতো অবস্থায় নিয়ে যায়। সব সেটিংস, অ্যাপ, ডেটা মুছে যায়। ফোন হয়ে যায় একদম ফাঁকা, একদম ফ্রেশ। তবে Factory Reset করার আগে অবশ্যই ব্যাকআপ নিতে হবে। Google Photos এ ছবি-ভিডিও ব্যাকআপ নিন। WhatsApp চ্যাট ব্যাকআপ করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল Google Drive বা কম্পিউটারে কপি করুন। কন্টাক্ট Google Account এর সাথে সিঙ্ক করা আছে কিনা চেক করুন।
Factory Reset এর পরে দেখবেন ফোন একদম নতুনের মতো ফিল হচ্ছে। অ্যাপ ওপেন হতে সেকেন্ডও লাগছে না। স্ক্রলিং সিল্কি স্মুথ। ক্যামেরা দ্রুত খুলছে। ব্যাটারিও বেশি চলছে। কারণ এখন কোনো জাঙ্ক নেই, কোনো বাজে সেটিংস নেই।
শেষ কথা
পুরানো ফোন মানেই স্লো ফোন নয়। একটু যত্ন নিলে, কিছু সেটিংস পরিবর্তন করলে পুরানো ফোনও চমৎকার চলতে পারে। আজকে টিপসগুলো শেয়ার করা হয়েছে সেগুলো একদম সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর। অ্যানিমেশন স্পিড কমানো, ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট করা, স্টোরেজ পরিষ্কার রাখা, অটো-স্টার্ট বন্ধ করা এবং শেষ উপায় হিসেবে ফ্যাক্টরি রিসেট। মনে রাখবেন, এগুলো করতে কোনো টাকা লাগে না, কোনো টেকনিশিয়ানের কাছে যেতে হয় না। নিজেই ঘরে বসে করতে পারবেন। এবং বিশ্বাস করুন, ফলাফল আপনাকে অবাক করবে। এরপরও যদি কাজ না হয়, তাহলে নতুন মোবাইল ফোনের দাম MobileDokan এর ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারেন


