আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আবারও কিউআর কোডভিত্তিক জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে শ্রীলঙ্কা। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পুনরায় চালু হওয়া এই ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য সাপ্তাহিক জ্বালানির নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গাড়ির মালিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ব্যবসায়িক নিবন্ধন নম্বর এবং যানবাহনের চ্যাসিস নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হয়।
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীকে একটি ইউনিক কিউআর কোড দেওয়া হয়, যা জ্বালানি কেনার সময় স্টেশনে প্রদর্শন করতে হয়।
জ্বালানি নেওয়ার আগে স্টেশন অপারেটর কিউআর কোড স্ক্যান করেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত সাপ্তাহিক কোটা থেকে জ্বালানির পরিমাণ সমন্বয় করা হয় এবং ব্যবহারকারীর অবশিষ্ট ব্যালান্স তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট হয়।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন যানবাহনের জন্য সাপ্তাহিক জ্বালানির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে— ব্যক্তিগত গাড়ি: ১৫ লিটার, মোটরসাইকেল: ৫ লিটার, থ্রি-হুইলার (টুকটুক): ১৫ লিটার, বাস: ৬০ লিটার, ভ্যান: ৪০ লিটার, লরি: ২০০ লিটার
পর্যটন খাত সচল রাখতে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরদের জন্য আলাদা বা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি, উৎপাদন ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। বিশেষ করে বুধবারকে ‘ফুয়েল হলিডে’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ভুয়া ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই রেশনিং ব্যবস্থা জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখলেও এর সফলতা নির্ভর করছে সঠিক বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতার ওপর।








