অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পর সোনালী ব্যাংকের বান্দরবানের রুমা শাখার ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব।
র্যাব বলছে, ব্যাংক ম্যানেজারকে নিরাপদে উদ্ধারে কোনো ঝুঁকি নেননি র্যাব সদস্যরা। গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে একটি কৌশল অবলম্বন করে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
‘ভাইকে ফিরে পেয়েছি’
অপহৃত নিজাম উদ্দিনের বড় ভাই ও চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানা পুলিশের এসআই মো. মিজান বলেন, ভাইকে ফিরে পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা রুমা থেকে বান্দরবানের পথে আছি। প্রথমে বান্দরবান র্যাব কার্যালয়ে যাব। বিস্তারিত পরে জানাব। জানা যায়, বৃজস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে উপজেলার মুননুম পাড়া ও বেথেল পাড়ায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের গাড়ি যেতে দেখেছি। এরপরই সন্ধ্যায় ইফতারের পর র্যাবের গাড়িতে করে ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয়।
যে কৌশলে উদ্ধার
কমান্ডার মঈন বলেন, অপহৃত সোনালী ব্যাংকের বান্দরবানের রুমা শাখার ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে উদ্ধারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে একেবারে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধারে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এখানে মধ্যস্থতার কৌশল অবলম্বন করে তাকে উদ্ধার করে র্যাব।
ম্যানেজারকে নিরাপদে উদ্ধারে ঝুঁকি নেয়নি র্যাব
কোথা থেকে ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকের পাশের একটি জায়গায় র্যাবের মধ্যস্থতায় কেএনএফ সদস্যরা ম্যানেজারকে রেখে যায়। মূলত তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য র্যাব সদস্যরা কোনো ঝুঁকি নেননি।
বিদ্যুৎ কেন ছিল না তদন্ত করা হচ্ছে
খন্দকার আল মঈন বলেছেন, বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে রাত সোয়া ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ এই হামলা চালায়। হামলার সময়ে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা এই বিষয়টি তদন্ত করছি। যতটা জেনেছি হামলায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে।
হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত
কমান্ডার মঈন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা যে তথ্য পেয়েছি এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত। ব্যাংক ও তার আশপাশে এলাকায় তারা বেশ কিছুদিন ধরে ছদ্মবেশে অবস্থান করে আসছিল। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বলতে গেলে তারা টাকার জন্য কাজটি করেছে। টাকাটা তাদের মূল টার্গেট ছিল।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সোনালী ব্যাংকে হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসীরা। তারা স্থানীয় বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়। পরে স্থানীয় চা দোকানে থাকা ব্যাংক ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে ভল্টের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে কেএনএফ-এর সদস্যরা মসজিদ থেকে নেজাম উদ্দিনকে ব্যাংকের ভল্টের চাবি না পেয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র তারা লুট করে।







