যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মুখে ইরান কতদিন টিকতে পারবে এ প্রশ্নেই চলছে আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কতদিন টিকবে তা নির্ভর করছে যুদ্ধের ধরন ও লক্ষ্যবস্তুর ওপর। বর্তমান সামরিক ও ভৌগোলিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিষয়টি নানা শর্তের সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের আধুনিক বিমানবাহিনী দিয়ে টানা ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ তীব্র বিমান হামলা চালাতে সক্ষম। এতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশটি দুর্বল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরান যে গোপন অস্ত্রের কথা বলছে, তার ওপরও পরিস্থিতি নির্ভর করতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সতর্কতামূলক সংকেত জালিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান হামলায় আকাশপথ রক্ষা করতে ইরান হিমশিম খাচ্ছে। অনেক সংকেত কেন্দ্র ও উৎক্ষেপণ যন্ত্র ধ্বংস হওয়ায় দ্রুত মেরামত সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তারা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালেও, এর তীব্রতা আগের তুলনায় কম বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধে ইরান দীর্ঘ মাস টিকতে পারবে না। তবে তারা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা কৌশল নিতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের প্রধান সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব। বাস্তবে কী হবে, তা সময়ই বলবে।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরান তার ভৌগোলিক আয়তন ও মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে বড় ধরনের ধ্বংস হলে পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৮৫ লাখ। সক্রিয় সেনা সদস্য ৬ লাখের বেশি। বিশাল ভূখণ্ড কৌশলগত সুবিধা দেয়।কিন্ত দেশটির অর্থনীতি ভঙ্গুর। সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। আকাশ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট অনেক বেশি শক্তিশালী।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ তীব্র হামলা চালাতে পারবে, এরপর রসদ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। শুধু আকাশ হামলায় সরকার পুরোপুরি উৎখাত না হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এতে অর্থনীতি আরও দুর্বল হবে এবং শাসনব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।
অধিকাংশ বিশ্লেষকের ধারণা, আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তির আকাশযুদ্ধে ইরান কয়েক সপ্তাহের বেশি কার্যকর প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারবে না। তবে স্থল অভিযান বা দীর্ঘ সংঘাতে গেলে জনশক্তি ও মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে পরিস্থিতি জটিল করতে পারে।


