হাতে হাতে স্মার্টফোন। আর সেই স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যদিনের নানা প্রয়োজন মেটানোর বস্তু। তবে গত কয়েকদিনের দেশের চলমান অস্তিতিশীল পরিস্তিতিতে ব্যাহত হয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা।
ব্রডব্যান্ড থেকে মোবাইল ডাটা কোনটাই কাজ করছে না। ইন্টারনেটের কারণে অনেকেই তাদের দৈনন্দিন কাজও করতে পারছে না। কেমন কাটছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দিন?
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে যেখানে প্রতিদিন প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মল বাতাসে সময় কাটাতে আসেন শত শত মানুষ। একা কিংবা দলীয়, সবার হাতেই দেখা মিলে স্মার্টফোন। প্রয়োজন বা অবসর বিনোদনের সঙ্গী হয় ইন্টারনেট। আড্ডার ফাকেও ইন্টারনেট যেনো আরেক সঙ্গী।
তবে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নেই সেই চিরচেনা চিত্র। সবার হাতে ফোন থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে ভিন্ন উপায়ে। মোবাইলফোনের জনপ্রিয় গেইম লুডু খেলে সময় পার করছেন অনেকেই। ইন্টারনেটের কারণে অনেকেই তাদের দৈনন্দিন কাজও করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার থেকে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও পরিপূর্নভাবে সকল সেবা প্রদান করতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ফলে বাণিজ্যেও পড়ছে ভাটা। সীমিত ইন্টারনেটের এই পরিস্থিতিতে অনেকে আড্ডা নয়তো বই ও পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন।
এজেন্ট ব্যাংকের সাথে জড়িত আব্দুল আলিম জানান, ব্যাংক থেকে টাকা না তুলতে পারায় তিনিও তার গ্রাহকদেরকে সেবা দিতে পারছেন না। তাই তিনিও অবসরে অলস দিন কাটাচ্ছেন।
ওষুধ ব্যবসার সাথে জড়িত রিপন মিয়া বলেন, ইন্টারনেটের কারণে প্রতিদিনের হিসাব ঢাকায় পাঠাতে পারছেন না। আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে তিনগুণ। তার দাবি দ্রুতই ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করা হউক। বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা দ্রুতই সচল করার দাবি জানান তিনি।
রাতুল নামে এক যুবক জানান, ইন্টারনেট না থাকায় যেমন ক্ষতি হয়েছে, তবে একদিকে কিছুটা হলেও উপকার হয়েছে। পরিবারের লোকজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে এখন প্রাণখুলে কথা বলা যাচ্ছে। সেই সাথে বই ও পত্রিকা পড়ারও মনোযোগ এসেছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী নাঈম বলেন, এখনতো কাজকর্ম সব বন্ধ তাই বন্ধুদের সাথে লুডু খেলতেছি। ইন্টারনেট সেবা চালু হলে কাজে ফিরতে হবে। এভাবে বসে থেকে সারাদিন বাসায় ভালো লাগে তাই চত্বরে এসেছি লুডু খেলতে।
চা দোকানি জনি মিয়া জানান, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে প্রতিনিদিন অনেক মানুষের আনাগোনা হয়। তাই এখানে চা বিক্রি করে তার পরিবার চলে। তবে গত কয়েকদিনে এখানে তিনি নিয়মিত দোকানই খুলতে পারেনি। সংসার চালাতেন হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।








