আন্তর্জাতিক

যেভাবে স্পেসওয়াক করেন নভোচারীরা

নভোচারীরা স্পেসে হাওয়ায় ভাসছেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠার নিচে দেখা যাচ্ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নভোচারীরা স্পেসে হাওয়ায় ভাসছেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠার নিচে দেখা যাচ্ছে, যেভাবে স্পেসওয়াক হয়।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া নভোচারীদের কাজের প্রয়োজনে মহাকাশযানের বাইরে যেতে হয়। স্পেসওয়াক-এর মাধ্যমে সেটি করেন তারা। সেজন্য তাদের বিশেষ স্যুট পরতে হয়। সেখানে হাঁটা যেমন কঠিন, তেমন বিপজ্জনক। স্টেশনটি যে উচ্চতায় ঘোরে সেখানে অনেক ঠাণ্ডা, কোন বাতাসও নেই। মাত্র ৩০ সেকেন্ড পরই মানুষ মরে যাওয়ার কথা। তাই শুধুমাত্র বিশেষ স্যুট পরেই নভচারীদের বেঁচে থাকা সম্ভব।

স্যুটটি দেখতে অনেকটা ছোট মহাকাশযানের মতো। পিঠে থাকা ব্যাগ নভচারীদের শ্বাস নেওয়ার বাতাস দেয়। আর কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেয়। স্যুটে কয়েকটি স্তর থাকে যেন গ্যাস ঢুকতে বা বেরোতে না পারে, আর অতিরিক্ত চাপও যেন সহ্য করতে পারে। বাইরের স্তরটি অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া অগ্নি-প্রতিরোধী কেভলার তন্তু দিয়ে তৈরি৷ মাইক্রো-মিটিওরাইট ও সৌর বিকিরণ থেকে নভচারীদের রক্ষা করে এই স্যুট।

নভোচারীরা বিশেষ পোশাক পরেন যার সঙ্গে টিউব লাগানো থাকে। এই টিউব দিয়ে ঠাণ্ডা পানি প্রবাহিত হওয়ায় নভোচারীরা অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা পান। স্টেশনে যাওয়ার আগে নভোচারীরা বিশেষ সুইমিংপুলে ট্রেনিং নেন। এইসময় ডাইভারদের মতো তাদের ১০০ কেজি ওজনের স্যুটের সঙ্গে আরও ওজন লাগানো থাকে, যেটি তাদের ভেসে থাকতে সহায়তা করে। অর্থাৎ মহাকাশের অবস্থা তৈরি করা হয়।

মহাকাশ স্টেশনে ওজনহীন পরিবেশ থাকে৷ কারণ, এটি এত দ্রুত পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে যে, কেন্দ্রাতিগ বল ও মাধ্যাকর্ষণ একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখে৷ প্রতি সেকেন্ডে এটি সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে! নভচারীরাও একই গতিতে চলতে থাকেন৷ কিন্তু তারা সেটি টের পান না। স্টেশনের বাইরে নভোচারীরা তাদের নিজস্ব অরবিটে থাকেন। ছোট ধাক্কা বা নড়াচড়ার কারণে অরবিট পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। সেটি হলে তাদের দূরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সেটি হলে নভোচারীদের পক্ষে নিজে নিজে ফিরে আসা সম্ভব নয়৷ সে কারণে মহাকাশযানের সঙ্গে তাদের সবসময় আটকে থাকতে হয়। নাসা ১৯৮৪ সালে বিশেষ ব্যাকপ্যাক পরীক্ষা করেছিল। বিভিন্ন কাজে নভোচারীরা যেন মহাকাশযান থেকে দূরে যেতে পারেন সেজন্য এর প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল৷ জরুরি পরিস্থিতিতে পড়লে নভোচারীরা তাদের অবস্থান স্থিতিশীল করতে থ্রাস্টার চালু করে মহাকাশযানে ফিরে যেতে পারেন।

স্টেশনের বাইরে কাজ করার সময় নভোচারীরা দুটি শিকল দিয়ে স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। শিকল ব্যবহার করে তারা নড়াচড়া করতে পারেন। তবে স্থান পরিবর্তনের সময় অন্তত একটি শিকলের সঙ্গে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হয়। আরও দূরে যাওয়ার জন্য নভোচারীরা রোবটিক হাত ব্যবহার করেন৷ নভচারীদের নিরাপদে ধরে রাখার জন্য সেখানে বিশেষ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

সুত্র: ডয়েচ ভেলে

বিষয়:নভোচারী
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…