নিজের জন্মনাম ‘দিলীপ কুমার’ কখনও পছন্দ করতেন না ভারতের কিংবদন্তী শিল্পী এআর রহমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মহান অভিনেতা দিলীপ কুমারের প্রতি কোনো অসম্মান নেই! কিন্তু কোনোভাবে আমার নামটা আমার নিজের ভাবমূর্তির সঙ্গে মেলে না।”
১৯৬৭ সালে চেন্নাইয়ে দিলীপ কুমার নামে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তী সংগীত পরিচালক। ২৩ বছর বয়সে তাঁর পরিবারসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। ভারতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিল্পী এআর রহমান বহুবার তাঁর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে।
নাসরিন মুনি কবিরের লেখা তাঁর জীবনী “এআর রহমান: দ্য স্পিরিট অব মিউজিক”-এ রহমান জানান, তিনি কখনও নিজের জন্মনাম পছন্দ করতেন না এবং তাঁর মুসলিম নামটি আসলে একজন হিন্দু জ্যোতিষীই প্রস্তাব করেছিলেন।
রহমান বলেন, “সত্যি বলতে, আমি আমার নামটা কখনও পছন্দ করিনি। মহান অভিনেতা দিলীপ কুমারের প্রতি কোনো অসম্মান নেই, কিন্তু নামটা আমার নিজের ভাবচিত্রের সঙ্গে মানাত না। সুফিবাদের পথে যাত্রা শুরুর আগে আমরা একবার এক জ্যোতিষীর কাছে যাই আমার ছোট বোনের কুষ্ঠি দেখাতে, কারণ আমার মা চাচ্ছিলেন ওর বিয়ে দিতে। তখনই আমি নাম পরিবর্তনের চিন্তায় ছিলাম। জ্যোতিষী আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই ছেলেটা খুবই আকর্ষণীয়।’”
তিনি আরও জানান, সেই জ্যোতিষী তাঁকে দুটি নামের প্রস্তাব দেন-“আবদুল রহমান” এবং “আবদুল রহিম”—এর মধ্যে থেকে বেছে নিতে বলেন। রহমান বলেন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে ‘রহমান’ নামটা ভালোবেসে ফেলি। অর্থাৎ, আমার মুসলিম নামটি একজন হিন্দু জ্যোতিষীর দেওয়া। এরপর আমার মায়ের মনে হলো নামের সঙ্গে ‘আল্লাহরাখা’ (অর্থাৎ, আল্লাহর সুরক্ষায়) যুক্ত করা উচিত। সেইভাবেই আমি হয়ে গেলাম এআর রহমান।”
এদিকে, কাজের দিক থেকে রহমানের পরবর্তী সিনেমা “তেরে ইশক মে”, যেখানে তিনি পরিচালক আনন্দ এল রাইয়ের সঙ্গে আবারও কাজ করছেন। এর আগে “রঞ্জনা” ও “আত্রাঙ্গি রে”-তে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর অন্যতম বড় আসন্ন প্রজেক্ট হলো নিতেশ তিওয়ারির “রামায়ণ”, যেখানে তিনি দুই অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমারের সঙ্গে যৌথভাবে মূল সংগীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর তৈরি করছেন—এটি তাঁদের প্রথম সহযোগিতা। ডিএনএ ইন্ডিয়া








