কোন পশুবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে মহাসড়কের কোথাও গাড়ী থামানো যাবে না বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন।
বুধবার ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে ‘ঈদ-উল-আযহা-২০২৩ উপলক্ষে মহাসড়ক নিরাপদ ও যানজট মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বলেন, অহেতুক যদি কেউ মহাসড়কে গাড়ী থামায় তবে বরদাস্ত করা হবে না। পশুবাহী গাড়ীর গন্তব্য কোথায় তা প্রতিটি গাড়ীর সামনে ব্যানার লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো পশুর হাটের ভলারটিয়ার জোরপূর্বক বা বাধা দিয়ে গাড়ী হাটে ঢোকাতে পারবে না। এজন্য প্রত্যেক পশুর গাড়ীকে সামনে ও পেছনে গন্তব্য লিখে রাখতে হবে। তাহলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ থাকবে না। যারা যাত্রী আছেন, পরিবহন সংশ্লিষ্ট আছেন, চাঁদাবাজি হবে না এটা নিশ্চিত থাকেন।
অনেক ক্ষেত্রে পশুবাহী ট্রাকে মাদক পরিবহন করা হয়- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট নজরদারী থাকবে। মাদক কারবারীরা যাতে কোনো ধরনের সুযোগ না পায় সেজন্য আমাদের নজরদারী ও তদারকি থাকবে।
বিভিন্ন সংগঠনের নামের চাঁদাবাজির সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন: আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে, হাইওয়ে পুলিশের তরফ থেকে দৃঢ়ভাবে বলছি- চাঁদাবাজির কোন সুযোগ নাই, থাকবে না। যারা যাত্রীরা রয়েছেন, মহাসড়ক ব্যবহার করবেন তারা একটি নিরাপদ পরিবেশ পাবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বাস্তবায়ন করবো। সেই সঙ্গে আমরা সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
এবারই প্রথমবারের মত করা সমন্বয় সভার কার্যকারিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন: এটি তো খুবই কার্যকরী হবে। কারণ আমরা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, হাইওয়ে পুলিশের সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসাবে আমরা মনে করি- আমরা আমাদের কাজটি তখনই সুন্দরভাবে করতে পারি, যখন আমাদের যারা অংশীজন বা স্টেক হোল্ডার, সহযোগী সংস্থা, জনসাধারণ রয়েছেন তাদের সাথে যখন আমাদের সমন্বয় করতে পারি। সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যেকটি জায়গা ধরে ধরে খুঁটিনাটি প্রত্যেকটি জায়গা ধরে ধরে, চিহ্নিত করে আলোচনা করছি। সেই সাথে কার কোন দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করছি এবং সমাধানকল্পে আমাদের কো-অর্ডিনেশন ও দায়িত্বগুলো চিহ্নিত করছি। আমি আশা করি, এই সম্বয় সভাটি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমনে এবং সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
মহাসড়ক অবরোধ করে হাটের লোকজন বল প্রয়োগ করে গরুর হাটে গাড়ী ঢুকিয়ে যানজন সৃষ্টির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন: আমাদের ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে আমরা এই সমস্যাটি জানতে পারি। তাই আমরা জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং অন্যান্য যারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য রয়েছে এবং যারা অংশীজন রয়েছেন, আমরা এটা নিশ্চিত করবেন, যাতে কোন হাটে কোন সদস্য সে ভলান্টিয়ার হোক বা অন্য কোন লোকই কোন গরুর গাড়িকে জোর পূর্বক বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করে মো. শাহাবুদ্দিন বলেন: আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমরা সবাই মিলে (জনগণ, স্টেক হোল্ডার) ক্রমান্বয়ে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রা, মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। এবারও আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি।কিছু গাড়ি সড়কে চলার সময় বিকাল হয়, অল্প মেরামত করে সেগুলো চালু করা যায়। কিন্তু দেখা যায় যানজটের মধ্যে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো যায় না। সে কারণে সারা বাংলাদেশে হাইওয়ে সংলগ্ন যত গ্যারেজ আছে, যারা এই সমস্ত যানবাহন মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান বা মেরামতকারী আছেন, তাদের একটি তালিকা আমরা তৈরি করেছি। সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করছি, প্রত্যেকটি কন্ট্রোল, সাব কন্ট্রোলে দেওয়া আছে।
তিনি বলেন: আমরা চাইনা কোন দুর্ঘটনা। তবুও সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে আঘাতপ্রাপ্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারা যায়, সেজন্য হাইওয়ে সংলগ্ন হাসপাতাল এবং সকল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো তালিকা ও নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সার্পোট দেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট নিরসনে সবার সহযোগীতা ও সচেতনতা খুবই প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন।
সভায় হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ,
বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি কাওসার আহমেদ পলাশ, বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুল কবীর। এছাড়াও হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি), ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।







