পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. শাহরিয়ার রাসেলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনানুগ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হয়েছে এবং কেন তা আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিবাদীদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩ ও ৪ নম্বর বিবাদীদের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর আবেদন আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ-উল-ইসলাম।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, মো. শাহরিয়ার রাসেল ০১-০৪-২০১৯ তারিখে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে যোগদান করেন। নিয়োগের জন্য আবেদন করার সময় তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ এবং ‘বিভাগীয় প্রার্থী’ হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করেন, যদিও তিনি প্রকৃতপক্ষে বিভাগীয় প্রার্থী ছিলেন না। পরবর্তীতে তার পিতা মো. লুৎফর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে বাতিল করা হলেও শাহরিয়ার রাসেল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করেননি।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (কর্মকর্তা/কর্মচারি) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২-এর ৩৬ অনুচ্ছেদের ২ ও ৩ উপধারার বিধান অনুযায়ী কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বছরে একবার চাকরিবই পরিদর্শনের সুযোগ আছে এবং ত্রুটি বা অসঙ্গতি দেখা দিলে ১৫ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু মো. শাহরিয়ার রাসেল এ নিয়ম পালন করেননি। উক্ত তথ্য গোপন করা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর চ্যাপ্টার XVIII এর ধারা ৪৬৫ থেকে ৪৭১ অনুযায়ী প্রতারণামূলক অপরাধ, যা ফৌজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য।
এছাড়াও তিনি ০১-০৪-২০১৯ তারিখে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে ৩০-০১-২০১৯ তারিখে তার নামে ‘লজিক অ্যান্ড পিক্সেল টেকনোলজিস’ নামীয় একটি আইটি ব্যবসার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন। উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ট্রেড লাইসেন্সের তথ্য তিনি চাকরিতে যোগদানের সময় গোপন করেন এবং পরবর্তীতেও তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। এই তথ্য গোপন করাও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (কর্মকর্তা/ কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২-এর ৩৮ অনুচ্ছেদের ২(৪) ধারার পরিপন্থী।








