কনস্টেবল মনিরুলকে গুলি করে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের প্রধান ফটকের সামনে এসে দাঁড়ায় আরেক কনস্টেবল কাউসার। তখন কাউসারকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের নিরাপত্তা রক্ষীরা জিজ্ঞেস করেন মনিরুল কেন রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তখন কাউসার তাকে উত্তরে বলে, ‘নাটক করতাছে এমনি রাস্তায় পড়ে আছে।’
এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন পথচারী ও অপরজন জাপান দূতাবাসের গাড়ি চালক। শনিবার দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরই কাউসার নামের পুলিশ কনস্টেবলকে হেফাজতে নিয়েছে গুলশান থানা-পুলিশ।কনস্টেবল মনিরুল ও কাউসার দুজনই ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনে’ কর্মরত ছিলেন।
গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্য পড়ে থাকার খবর পাওয়া মাত্র ঊর্ধ্বতনরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি যে রাত পৌনে ১২টার দিকে ফিলিস্তান দূতাবাসের সামনে উত্তর পাশের গার্ডরুমে এলোপাথারি গুলিতে মনিরুল ইসলাম নামে এক কনস্টেবল(৩৬৯৮১) মারা গেছে৷ গুলি করেছে কনস্টেবল কাউসার আহমেদ। তাকে আমরা হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়েছি।’
‘একই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন সাইকেল আরোহী পথচারী। আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি জাপানি দূতাবাসের ড্রাইভার সাজ্জাদ হোসেন।’
ফিলিস্তিন দূতাবাসের এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা দূতাবাসের ভিতরে ছিলাম। হঠাৎ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে সাত থেকে আট রাউন্ড গুলি শব্দ শুনে আমরা বাহিরে আসি। বাইরে আসার পর কাউসার কে দেখি ফিলিস্তিনি দূতাবাসের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর একটু দূরেই পড়ে রয়েছে মনিরুলের মরদেহ। তখন প্রধান ফটকের দুই থেকে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী ছিল। তারা গুলি শব্দ শুনতে পেলেও তখন ধারণা করতে পারিনি যে কাউসার মনিরুলকে গুলি করে এসেছে।
তখন আমরা কাউসারকে জিজ্ঞেস করি কি হয়েছে। তখন সে বলে নাটক করতেছে এমনি মাটিতে পড়ে রয়েছে। এই কথা বলে কাউসার দূতাবাসের বিপরীত পাশে রোডে চলে যায় । এরই মধ্যে সবাই বুঝে উঠে যে কাউসার মনিরুলকে গুলি করেছে। এর পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীরা কাউসারকে আটক করে।’
বারিধারা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে এ ঘটনার জেরে ডিপ্লোমেটিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ছেয়ে ফেলেছে পুলিশ। বারিধারা এলাকায় যে কেউ প্রবেশ করতে গেলে তল্লাশি করা হচ্ছে।








