সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউএজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এক যৌথ বিবৃতিতে তারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ও নির্ভীক সাংবাদিক নূরুল কবীরের সঙ্গে অসদাচরণ এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। এটি মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর চরম আঘাতের শামিল, যা চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব নূরুল কবীরকে যেভাবে বাধা প্রদান ও লাঞ্ছনা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অনভিপ্রেত। একজন প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
ইউট্যাব নেতারা আরও বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে যেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন কর্মকাণ্ড জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয় এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে বলেন, নূরুল কবীর বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন সত্যনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিক। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসনের সময়েও হুমকির মুখে পড়ে তিনি কখনো সত্য প্রকাশ থেকে সরে আসেননি। এমন একজন সাংবাদিকের প্রতি এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইউট্যাব অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং ভবিষ্যতে কোনো নাগরিক যাতে এভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সাংবাদিক সমাজ ও মুক্তচিন্তার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।








