ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা আলমগীর হোসেনকে ১৪ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করার পর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশের ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপন আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হাদি হত্যার মূল আসামি
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন সূত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে দুই বাংলাদেশি নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। তারা সুযোগ পেলেই আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে ৭ ও ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে বনগাঁ এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-রাহুল ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), বাসিন্দা পটুয়াখালী, বাংলাদেশ। আলমগীর হোসেন (৩৪), বাসিন্দা ঢাকা, বাংলাদেশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদীকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এরপর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসে, যাতে সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে।
হাদি হত্যার মূল আসামি সম্পর্কে যা জানা গেল
ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। পুলিশের পিসিআর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদের স্থায়ী ঠিকানা বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেশবপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। তার বাবা হুমায়ুন কবির। তবে বর্তমানে তিনি ঢাকার আদাবর থানাধীন পিস কালচার হাউজিং সোসাইটি এলাকায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।

২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন ফয়সাল করিম মাসুদ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশিত হয়।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে এসব হিসাবে থাকা সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেদিন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ এই সম্পদ অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করার আবেদনটি করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সিআইডি।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগানের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থ সরিয়ে ফেলা বা আত্মসাৎ করার আশঙ্কা থাকায় আদালত এই হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি সেখানে থাকা অর্থ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ১৪ ও একই আইনের ১৭(২) ধারা মোতাবেক তদন্তাধীন এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অর্থ রক্ষার স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।







