ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল শ্যুটার ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পরে একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই ও পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ‘এই সময়’ তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ ভারতে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে ওই দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের অনুরোধে ভারতে অবস্থান করে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করে ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ বিন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন ভারতে আটক ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।







