কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, নাকি কিছু প্রতিষ্ঠান বিপদকে বাড়িয়ে তুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে তা নিয়ে আছে সংশয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক দাবি করেছে যে তারা বিশ্বের প্রথম এআই-নেতৃত্বাধীন বৃহৎ পরিসরের সাইবার হামলা শনাক্ত করেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক বলে তাদের এআই সহকারী ক্লাউড কোডকে প্রভাবিত করে একটি উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ও বৃহৎ পরিসরের সাইবার হামলা চালানো হয়। হামলার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ এআই নিজেই পরিচালনা করে, যেখানে মানব হস্তক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সীমিত তাদের এমন দাবি।
কোম্পানির মতে, হামলাকারীরা সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও রাসায়নিক উৎপাদনকারী কোম্পানিসহ প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে। যদিও সফলতা সীমিত ছিল, অ্যানথ্রপিক হামলাকারীদের চীনা রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকার বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে তারা কীভাবে হামলা শনাক্ত করেছে বা কোন কোন প্রতিষ্ঠান টার্গেট ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইউনিভার্সিটি অব লুইসভিলের এআই ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোমান ভি ইয়ামপলস্কি বলেন, আধুনিক এআই মডেলগুলো সহজেই এক্সপ্লয়েট কোড তৈরি ও পরিবর্তন করতে পারে, চুরি হওয়া বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং খুব অল্প সময়ে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ফলে দক্ষতা ও সক্ষমতা দুটোই বাড়ছে।
ইপচ এআই–এর পরিচালক জাইমি সেভিয়া মনে করেন, এআই-সহায়ক হামলা নতুন নয়, তবে এর ব্যাপকতা এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার মতে, মাঝারি মানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবে, কারণ তারা দীর্ঘদিন সাইবার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এআই সাইবার প্রতিরক্ষায় মহাপরিবর্তন ঘটাবে বলে উল্লেখ করে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রেড হেইডিং জানান, মানব সম্পদের অভাবে অনেক সাইবার নিরাপত্তা অভিযান পিছিয়ে রয়েছে। এআই এসব সিস্টেমকে বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। তবে নতুন প্রযুক্তি প্রতিরক্ষায় কার্যকরভাবে ব্যবহারের আগে হামলাকারীরা তা ব্যবহার করে বড় ক্ষতি করতে পারে।








