সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমানের ৮০তম জন্মদিন বুধবার (২৭ নভেম্বর)। যিনি কালজয়ী ও ভিন্নধারার চলচ্চিত্র তিতাস একটি নদীর নাম, পদ্মানদীর মাঝি, হঠাৎ বৃষ্টি, শঙ্খচিল, মনের মানুষ-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো প্রযোজনা করেছেন। বুধবার তার জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইতে লাল গালিচা দিয়ে উদযাপন করা হয়।
পরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে হাবিবুর রহমান বলেন, জন্মদিনটি পরিপূর্ণের চেয়েও যদি বেশি কিছু থাকে সেভাবে চ্যানেল আই পালন করেছে। এতে আমি অত্যন্ত সম্মাধিত বোধ করছি। এজন্য আমি আমার ছোট সমতুল্য ফরিদুর রেজা সাগরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আসলে সে সবসময় এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সম্মানিত করার চেষ্টা করে থাকে। আর চ্যানেল আই-এর কারণে দিনটি বিশেষ হয়ে উঠেছে।
এক জীবনে একাধিক কালজয়ী সিনেমায় লগ্নী করেছেন হাবিবুর রহমান খান। বরাবরই থেকে ক্যামেরার পিছনে। তার কাছে এই জীবনটা কেমন? উত্তরে তিনি বলেন, কিছু অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যদি আমি সিনেমার যুক্ত থেকে খারাপ থাকতাম তাহলে সিনেমার লগ্নী করতাম না। সিনেমা অনেকটা গোলাপের মত। আর গোলাপ কার না ভালো লাগে! আসলে এটা একটি টিম ওয়ার্ক, আমি তার একটি অংশ।
১৯৭২ সালে ১৬ জুলাই কিংবদন্তী নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন হাবিবুর রহমান। দুই বছর আগে চলচ্চিত্রে তার ৫০ বছর পূর্ণ হয়! পরবর্তী সময়ে তিনি প্রযোজনা করেন পদ্মা নদীর মাঝি, হঠাৎ বৃষ্টি, মনের মানুষ, শঙ্খচিলসহ আরো বহু কালজয়ী ছবি। তার বরাবরই লক্ষ্য ছিল সাহিত্যনির্ভর বা শিল্পশোভন চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে।
হাবিবুর রহমান দুটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। একটি হলো আশীর্বাদ চলচ্চিত্র। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি শুধু যে শিল্পশোভন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে তা নয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র পরিবেশিতও হয়েছে। রয়েছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’।
এছাড়া তিনি ছবির কাজের জন্য ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাইতেই একত্রিত করেন একঝাঁক মেধাবী তরুণকে। ছবির পেছনে নানা ভূমিকায় কাজ করেন ফখরুল হাসান বৈরাগী, তমিজ উদ্দীন রিজভী, আখন্দ সানোয়ার মোরশেদ, শমশের আহমেদ, আওলাদ হোসেন চাকলাদার, এ জে মিন্টু ও ছটকু আহমেদ। এরপর তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘শাওন সাগর লিমিটেড’। সাতজন ছিলেন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।
ছেলেবেলা থেকেই প্রচণ্ড ডানপিটে এই মানুষটির জন্ম বিক্রমপুরে হলেও শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম তার। বেশ আয়েশেই কেটেছে ছেলেবেলা। তার ছেলেবেলা ছিল আনন্দময়। নানা ছিলেন ধনবান। সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও কম যাননি।
চলচ্চিত্রের প্রতি ছিল অগাধ প্রেম। সেই প্রেম থেকেই তিনি চলচ্চিত্রকে মনে প্রাণে ভালোবেসেছিলেন। হাবিবুর রহমানের ৮০তম জন্মদিনে চ্যানেল আই-তে বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে অনন্যা রুমার প্রযোজনায়‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে উদযাপনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, ছটকু আহমেদ, শবনম ফেরদৌসী এবং হাবিবুর রহমান খানের দুই পুত্র ও কন্যাসহ অনেকে।
ছবি: নাহিয়ান ইমন









